জামায়াত ছাড়তে রাজি নয় বিএনপি

বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে অনুরোধ করে আসছে। জাতীয় ঐক্য নিয়ে আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের জামায়াত ছাড়ার শর্ত, বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষি ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি, জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনে মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি চিন্তায় ফেলে দেয় বিএনপিকে।

বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ১৮ ও ২১ আগস্ট যথাক্রমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সেখানে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সম্পর্ক কী হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। খালেদা জিয়া স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন- জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের।

বিভিন্ন মহল ও শুভাকাঙ্ক্ষিদের অনুরোধ, পরামর্শ ও উপদেশ উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মুহূর্তে জামায়াত ছাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ তারা দেখছেন না। বরং ২০ দলীয় জোটের অখণ্ডতা বজায় রেখে সামনের দিনগুলোতে সরকারবিরোধী শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা-ই বিএনপির বড় লক্ষ্য।

আর এই লক্ষ্য অর্জনে জামায়াতের জনসমর্থন, অর্থিক ও সাংগঠনিক শক্তি, আন্তর্জাতিক লবিং, আনুগত্য, রাজপথের আন্দোলনে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

যাদেরকে জোটে ভেড়ানোর জন্য জামায়াত ছাড়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আ স ম আব্দুর রবের জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জে এস ডি), ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, ডা. একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সিপিবি ও খালেকুজ্জামানের বাসদ মিলেও জামায়াতের সমান ভোট কাস্ট করতে পারবে না।

এ দলগুলোর জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তি একখানে করলে জামায়াতের সমান হবে না। সর্বপরি দল পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন-তাও নেই ওইসব রাজনৈতিক দলের। আর জামায়াত ছাড়লেই আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব, ড. কামাল হোসেন, ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করতে আসবেন-এমন প্রতিশ্রুতিও মেলেনি তাদের কাছ থেকে।

বিএনপি নেতারা বলছেন- যারা জামায়াত ছাড়ার কথা বলছেন, তারা কেউ বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্য’র ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। অতীতে তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো ঐক্যও হয়নি। সুতরাং তাদের ভরসায় দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতকে ত্যাগ করা ঠিক হবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিভক্তির রেখা টেনে জাতীয় ঐক্য হয় না। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট আন্দোলন ও নির্বাচনের। সেটা থেকে সরে আসার যৌক্তিক কোনো কারণ দেখছি না।

 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password