রণক্ষেত্র হলো ধানমণ্ডি হকার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীদের সংঘর্ষে ছাত্র, ব্যবসায়ী, পথচারী, পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আগুন দেওয়া হয়েছে চারটি মোটরসাইকেলে। ভাঙচুর করা হয়েছে মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাস্তা অবরোধ করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে যানবাহন চলাচল। এতে আশপাশের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রী ও পথচারীদের। ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে উভয় পক্ষ।

দোকানিদের দাবি, ছাত্ররা কম দামে জোর করে শাড়ি নিতে চাওয়ায় বিরোধ তৈরি হয়। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে থাকা একজনের আত্মীয়াকে দোকানকর্মীরা ‘টিজ’ করায় ঝগড়া বাধে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত হওয়ায় ঢাকা কলেজের দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশসহ আরো অনেকে আহত হলেও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের একটি দোকান থেকে শাড়ি কেনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। বাগিবতণ্ডার এক পর্যায়ে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা একজোট হয়ে এক পাশে অবস্থান নেয়। বিপরীত পাশে অবস্থান নেয় ঢাকা কলেজের ছাত্ররা। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি তারা পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা এক সাংবাদিকের মোটরসাইকেলসহ চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। পুলিশ গিয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কাউকে আটক হয়নি।

ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আইয়ুব আলীসহ কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী একজনের স্বজনদের নিয়ে ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের শাড়িমেলা নামের একটি দোকানে বিয়ের শাড়ি কিনতে যায়। শাড়ির দাম নিয়ে দরকষাকষির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। পরে শাড়িমেলার কর্মীরা জাফর, মিলন, পাপন, মাহবুবসহ তাদের সঙ্গে থাকা আরো একজনের গায়ে হাত তোলে। খবর পেয়ে কলেজের ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ব্যবসায়ীদের একটি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র শাড়ি কিনতে যায়। তারা একটি জামদানি শাড়ি পছন্দ করে। দোকানদার ওই শাড়ির দাম ৩০ হাজার টাকা চান। ছাত্ররা ওই শাড়ির দাম প্রথমে তিন হাজার টাকা বললে দোকানিরা নাখোশ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা শাড়িটির দাম বলে ১৫ হাজার টাকা। দোকানদার ওই দামে শাড়ি দিতে না চাইলে ছাত্ররা কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে শাড়িটি কেনার চেষ্টা করে। এ নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। এ খবর পেয়ে ঢাকা কলেজ থেকে তাঁর বন্ধুরা এগিয়ে গেলে দোকানিরা তাদের ওপর ইটপাথর ছোড়ে।

অন্যদিকে শাড়িমেলার মালিক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘একজন মহিলাসহ ঢাকা কলেজের কয়েক ছাত্র দোকানে আসে। আমার কর্মচারী শাড়ির দাম ৩০ হাজার টাকা চাইলে ওই ছাত্ররা প্রথমে শাড়ির দাম তিন হাজার টাকা বলে। পরে তারা ১৫ হাজার টাকায় অনেকটা জোরপূর্বক শাড়িটি নিয়ে যেতে চায়। শাড়ি না দিলে দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর পাঁচ-সাতজন যুবক এসে আমার দোকানসহ আরো কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। এরপর দল বেঁধে কলেজের অন্য ছাত্ররা এসে মার্কেটে ভাঙচুর শুরু করে। পরে সংঘর্ষ বাধে।’

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের সংঘর্ষে মিরপুর সড়কে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তা অবরোধ, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি, ইটপাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। রাস্তায় রাখা চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে ঢাকা কলেজের সামনের রাস্তা পুলিশ বন্ধ করে দেয়। এতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের সামনে কয়েক শ দোকানি আর ঢাকা কলেজের সামনে শতাধিক ছাত্র। তাদের হাতে ইটপাথর ও লাঠিসোঁটা। তারা ইটপাথর ছোড়াছুড়ি করছে। মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যরা উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলেন।

বাংলাদেশ সময় : ০৯২০ ঘন্টা, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password