ফের জঙ্গি উত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যার চেষ্টা হচ্ছে : নাসিম

পুলিশের গাড়ি ও রাজপথে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে দেশে ফের জঙ্গিবাদের উত্থানের অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত নিষ্ক্রিয় হয়েছে, নিস্তেজ হয়েছে। কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এখনো আমরা দেখছি, পুলিশের গাড়ি ও রাজপথে হামলা হচ্ছে। ওই জঙ্গির উত্থান আবারও আমরা শুনতে পাচ্ছি। জঙ্গি উত্থানের মাধ্যমে আবারও গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা হচ্ছে।

শনিবার (১ জুন) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দল আয়োজিত ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আলোচনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, ১৪ দল ততদিন থাকবে। ওই অপশক্তিকে আর কোনোদিন ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। মানুষকে নির্যাতন করার জন্য আর তাদের সুযোগ দেওয়া হবে না। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা বার বার বিজয়ী হবো, যেভাবে লড়াইয়ের মাঠে বিজয়ী হয়েছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যখনই এ দেশের গণতন্ত্রকে আঘাত করা হয়েছে, তখনই আওয়ামী লীগকে আঘাত করা হয়েছে। আঘাত করা হয়েছে নিরীহ নেতাকর্মীদের, আঘাত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে। ঠিক তখনই বাংলার জনগণকে নিয়ে গণতন্ত্রের লড়াই শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

নাসিম বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল। জাতীয় চার নেতাকে জেলের মধ্যে হত্যার মাধ্যমে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল খলনায়ক জিয়া-মোশতাকের হাত ধরে। এরপর অনেক সময় চলে গেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা নিজের বেদনা সংহত করে লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু গণতন্ত্রকে হত্যার চেষ্টা এখনো থেমে নেই।

২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসহ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করেছে বলে অভিযোগ করেন মোহাম্মদ নাসিম। তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাসিম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফের গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ। এই সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। তা নিয়ে সমালোচনাও হতে পারে সংসদের ভেতরে-বাইরে। সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের দেশেও সরকারের সমালোচনা হবে। সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো কঠোরভাবে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু এই দেশে আর কোনোদিন পনেরো আগস্ট কিংবা একুশে আগস্টের মতো ঘটনা ঘটবে, এমনটি আর আমরা চাই না।

তিনি বলেন, কিন্তু গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তাই আমাদের সবাইকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। ঈদের পর আমরা শেখ হাসিনার নির্দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করব। সব চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। এই সমাবেশের মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগ যেভাবে সুসংগঠিত হবে, ১৪ দলও সেভাবে সুসংগঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password