সঙ্কট থাকলেও চাপ নেই কল মানি মার্কেটে

ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই ব্যাংকের লেনদেন বাড়ে। এ সময় টাকা না থাকলে অর্থসংকটে পড়ে ব্যাংক। তখন সেই চাপ সামাল দিতে কল মানি মার্কেট (অন্য ব্যাংক) থেকে ধার নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। নগদ টাকার সঙ্কট থাকলেই মূলত ধার নিতে হয় তাদের। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তীব্র তারল্য সংকট থাকার পরেও এ বছর কলমানি মার্কেটে তেমন একটা চাপ দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোকে অন্য ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ থেকে ২৯ মে সাত কর্মদিবসে কলমানির গড় সুদহার ছিল ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। যার সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৪০ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ২৮ মে (মঙ্গলবার)। ওইদিন ৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যার গড় ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ২৯ মে, ৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম চৌধুরী জানান, ঈদের সময় নগদ টাকার চাপ এড়াতে পূর্ব প্রস্তুতি ছিল অনেক ব্যাংকের। তাছাড়া রেমিটেন্স প্রবাহ ভালো থাকায় নগদ টাকা সরবরাহে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।

শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর মাধ্যমে প্রায় ৯শ কোটি টাকার তহবিল দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া সরকারি অনেক প্রকল্পের টাকা ফেরত আসায় নগদ টাকার সরবরাহ ভালো ছিল।

এসব কারণে এবারের ঈদে কল মানি মার্কেটে খুব বেশি চাপ সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করেন হালিম চৌধুরি। ঈদের আগে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটা করেন। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকলে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে ধার করে। সাধারণত এক রাতের জন্য এই ধার দেওয়া হয়। এর থেকে কিছু টাকা সুদও পাওয়া যায়।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password