সার্কুলার মাধ্যমে ঢাকায় স্কাইট্রেন রুটের বিনিয়োগে আগ্রহী দুবাই

ঢাকা ঘিরে স্কাইট্রেন তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের যৌথ কোম্পানি। প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচে দুবাইভিত্তিক এ কোম্পানি মাত্র দুই বছরে ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃত সার্কুলার রেলরুট টানতে পারবে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি এ প্রস্তাব নিয়ে তারা রেল মন্ত্রণালয় ঘুরে গেছেন।ঢাকার মধ্যে ৮০ কিলোমিটার স্কাইট্রেন নির্মাণ করতে প্রস্তাব দিয়েছে এই কোম্পানি। মাত্র দুই বছরে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক স্কাই ট্রেন নির্মাণ করবে তারা। আর এতে মেট্রোরেলের চেয়ে কম খরচ এবং অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রস্তাবে।

কোম্পানির বাংলাদেশ অংশের ‌‌সিজ এন্ড পার্টনারস লি‌মি‌টেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাজ আহমেদ শাহরিয়ার জানান, সার্কুলার রেল রুট নির্মাণে রেলপথ মন্ত্রণালয় যাচাই বাছাই করছে। এ কারণে রেল মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব দিয়েছে। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সার্কুলার রুটে স্কাই ট্রেনে আগ্রহ দেখিয়েছেন।সমীক্ষা তথ্য অনুসারে ঢাকায় এখন ঘন্টায় ৭ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলে। দিনের অর্ধেক সময় বা কর্মঘন্টা নষ্ট হয় রাস্তায় যানজটে আটকে থেকে। এমন সময়ে মেট্রোরেলের কাজও চলছে। তবে, একই সঙ্গে অর্থ ও ভূমি সাশ্রয়ী স্কাইট্রেন প্রযুক্তি ঢাকায় গতি আনতে পারে বলে তারা নিজেরা সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখেছেন। এ কারণে প্রাথমিকভাবে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় ঢাকা উত্তর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশিরভাগ জায়গায় সার্কুলার মাধ্যমে স্কাইট্রেন রুটের মধ্যে পড়বে। এতে দিনে কয়েকলাখ মানুষ মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটে চলাচল সুবিধা পাবেন। আর পুরো ৮০ কিলোমিটার সার্কুলার রুটে স্কাইট্রেনে ঘুরতে এক ঘন্টা সময় লাগবে। এর মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ টি স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করবে।

সাজ জানান, ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কপথগুলো উত্তর দক্ষিণমুখী। এজন্য সার্কুলার রুটে তারা পুর্ব পশ্চিম দিকে জোর দিয়েছেন। এ হিসেবে ৮০ কিলোমিটারে পুরো ঢাকা ঘিরে ফেলা যাবে। প্রতি ১০ মিনিট অন্তর অন্তর ইল্কেকট্রিক অটোমেটেড ট্রেনকোচ সার্কুলার রুট ধরে স্কাইট্রেন চলবে।

‌সিজ এন্ড পার্টনারস লি‌মি‌টেডের ডিরেক্টর সুস্মিতা শারলিন জানান, দুবাই এবং চীন মেট্রোরেলের পর স্কাই ট্রেন প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে। চীনে একটি স্কাইট্রেন নির্মাণ শেষ হয়েছে এখনও আরেকটির নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। ওই একই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেও স্কাইট্রেন নির্মাণে সহযোগি হয়েছে। তাদের বিনিয়োগে এর নির্মাণ হবে। পরবর্তী ২৫ বছর তারা স্কাইট্রেন থেকে টোল নেবে-এমন প্রস্তাব রয়েছে।

পরিবহন কৌশলপত্র নামে সর্বশেষ ২০১৭ সালে রিভাইস স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি) নামে নগর পরিকল্পনাবিদরা ঢাকার পরিকল্পনা করেছেন। সেখানে স্কাই ট্রেনের প্রস্তাব নেই। নতুন করে স্কাই ট্রেন প্রযুক্তিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয় করতে চাইলে কি ধরণের বাধার মুখে পড়তে পারে?

এমন প্রশ্নে সাজ আহমেদ জানান, স্কাইট্রেনে আলাদা করে জমি অধিগ্রহণের তেমন প্রয়োজন হয়না। আর যেহেতু এটি এলিভেটেড আকারে যাচ্ছে এজন্য ভূমিতে কাজও নেই। সম্পূর্ণ অটোমেটেড ভাবে পিলার এবং স্কাইট্রেন রুট টানা যাবে। এক্ষেত্রে মেট্রোরেলের চেয়ে কয়েকগুণ সাশ্রয়ী হতে পারে এটি।

প্রস্তাব অনুযায়ি, ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে স্কাইট্রেন নির্মাণ শেষ করা যাবে। যেখানে মেট্রোরেল শেষ হতে ছয় বছরের বেশি সময় লাগছে। আর মেট্রোরেলের চেয়ে প্রায় অর্ধেক খরচে এটি করা যাবে বলে মনে করে ‌‌সিজ এন্ড পার্টনারস লি‌মি‌টেড এবং দুবাই ভিত্তিক অ্যাকসেন্ট ক্যাপিটাল লিমিটেড।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password