এবার বিপিএলের অপেক্ষা

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নূরুল হাসান সোহানকে বল করছিলেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে এ বছর জাতীয় দলের সেরা স্পিনার তাইজুল ইসলামও আছেন। সোহান প্রায় প্রতিটি বলই উড়িয়ে মারছিলেন। বলগুলো উড়ে গিয়ে একাডেমির মাঠ পেরিয়ে বাইরে পড়ছিল। গত শবিার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের চিত্র এটি। এমন ব্যাটিং অনুশীলন দেখে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। আর মাত্র ৬ দিন পরেই মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরের। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সূচিও ঘোষণা করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে।

সেই অনুয়ায়ী আগামী বছর ৫ই জানুয়ারি বিপিএল আসর মাঠে গড়ানোর কথা। নির্বাচনের ফাঁদে পড়েছিল বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসর। এ বছর অক্টোবরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। সেই অনুয়ায়ী আগামী বছর ৫ই জানুয়ারি এই আসর মাঠে গড়াবে। তবে গুঞ্জন রয়েছে পিছিয়ে যেতে পারে ৩ দিন। কারণ নির্বাচনের পর এত অল্প সময়ে দলগুলোর জন্য মাঠের প্রস্তুতি নেয়া কঠিন বিষয়।ঢাকা ডায়নামাইটস, রাজশাহী কিংস, সিলেট সিক্সার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয় ছাড়াও রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও এই নির্বাচনের মাঠে লড়াইয়ে। যে কারণে বিসিবিতেও ছিল নির্বাচনী আমেজ। মূলত এ কারণেই প্রথম দফা পিছিয়ে দেয়া হয় বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসর। তবে বিসিবির একটি সূত্র দাবি করেছে দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করেই বিপিএলের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে- যে কোরণে বিপিএল হয়তো সঠিক সময়ই শুরু হবে। তবে বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে জড়িত কোচ ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন নির্বাচনের পর এত অল্প সময়ে প্রস্তুতি নেয়া খুবই কঠিন। যে কারণে কিছুটা পিছিয়ে শুরু হতে পারে।

এবারের বিপিএলেও অংশ নিচ্ছে মোট ৭টি দল। ঢাকা ডায়নামাইটস, রংপুর রাইডার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা টাইটান্স, রাজশাহী কিংস, চিটাগং ভাইকিংস এবং সিলেট সিক্সার্স। সূচি অনুসারে ম্যাচগুলো মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজন হবে। গেল বছর বিপিএলের ৫ম আসর শুরু হয়েছিল সিলেট থেকে। তবে এবার সেটি হচ্ছে না। হোম অব ক্রিকেটে ৫ই জানুয়ারি দুটি ম্যাচ দিয়ে এবারের যাত্রা শুরু হবে। উদ্বোধনী দিনে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হবে চিটাগাং ভাইকিংস। ষষ্ঠ আসরে ভাইকিংসদের খেলা ছিল অনিশ্চিত। তবে শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত বদল করে। একই দিনে সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে ঢাকা ডাইনামাইটসের মুখোমুখি হবে রাজশাহী কিংস। তবে সবচেয়ে আকর্ষণ থাকবে প্রথম ম্যাচ ঘিরেই। কারণ প্রথমবার কোনো সংসদ সদস্য এই টুর্নামেন্টে বল হাতে মাঠে নামবেন। তিনি রংপুর ও বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বর্তমান সূচি অনুসারে ঢাকায় খেলা চলবে ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর বিপিএল চলে যাবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সিলেটে প্রথম দিনে দুপুরে খুলনা টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী কিংস। এরপর দ্বিতীয় দিনের ম্যাচে সিলেট সিক্সার্স ঘরের মাঠে মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। ১৯শে জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেটের বিপিএল পর্ব শেষ হতেই ঢাকায় ফিরবে। মিরপুরে ফের খেলা হবে ২৩শে জানুয়ারি পর্যন্ত। সেখান থেকে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হবে ২৫শে জানুয়ারি। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম দিনে সিলেট সিক্সার্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী কিংস। দিনের পরের ম্যাচে ঘরের মাঠে চট্টগ্রাম ভাইকিংসের মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স। এখান থেকে শেষ ধাপ শুরু হবে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে। সূচি অনুসারে ফাইনাল মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে ৯ই ফেব্রুয়ারি।

বিপিএল পেছানোর সুযোগ খুব একটা নেই। কারণ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে নিউজিল্যান্ড যেতে শুরু করবেন। তবে যারা ফাইনালে খেলবেন তারা হয়তো বা শেষ করেই নিউজিল্যান্ড সিরিজে অংশ নিতে চাইবেন বলে জানা গেছে। বিপিএল নিয়ে বেশির ভাগ ক্রিকেটারই দারুণ উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে তরুণ সৌম্য সরকার, সোহান, এনামুল হক বিজয়রা। তারা বিপিএলকে নিজেদের কিছু করে দেখানোর প্লাটফর্ম মনে করেন।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password