মরিনহো বরখাস্ত

কোচ হোসে মরিনহোকে বরখাস্ত করলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব। ইংলিশ শীর্ষ ফুটবল দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আড়াই বছর দায়িত্ব সামলানোর পর চাকরি খোয়ালেন ৫৫ বছর বয়সী এ পর্তুগিজ কোচ। গতকাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব সামলানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন কোচের নিয়োগ দেয়া হবে আর এরই মধ্যে স্থায়ী কোচের সন্ধানে প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্বকালে তার কাজের জন্য হোসেকে (মরিনহো) ধন্যবাদ এবং ভবিষ্যতে তার সাফল্য কামনা করছি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে সর্বশেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এতে তালিকার শীর্ষ দল লিভারপুল থেকে ১৯ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ে ম্যানইউ। চলতি প্রিমিয়ার লীগে ১৭ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে শোভা পাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাম। ইংলিশ শীর্ষ ফুটবল লীগের শুরুর ১৭ ম্যাচে ম্যানইউর এতো কম পয়েন্ট দেখা যায়নি গত ২৮ বছরে। ২০১৬’র মে’তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন কোচ হোসে মরিনহো।

চুক্তি ছিল ৩ বছরের। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। ম্যানইউ’র দায়িত্ব নেয়ার আগে ২০১৫’র ডিসেম্বরে মরিনহোকে বরখাস্ত করেছিল ইংলিশ অপর ক্লাব চেলসি। লন্ডনের ক্লাবটিতেও তিনি টেকেন আড়াই বছর। ক্যারিয়ারে কোনো ক্লাবেই তিন মৌসুমের বেশি সময় টিকতে পারেননি কোচ মরিনহো। চেলসিতে প্রথম দফায় ২০০৪’র ২রা জুন থেকে ২০০৭’র ২০শে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব সামলান তিনি। আর চেলসির দায়িত্বে সেবার চতুর্থ মৌসুমের শুরুতেই চাকরি খোয়ান মরিনহো। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে তিনি কাটান কাঁটায় কাঁটায় তিন বছর (৩১শে মে ২০১০ থেকে ১লা জুন ২০১৩)। আর চেলসিতে ফিরে আড়াই বছরের মাথায় বরখাস্ত হন তিনি। চেলসিতে দু’দফা দায়িত্বে তিনবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, তিনবার লীগ কাপ ও একবার এফএ কাপ শিরোপার স্বাদ নেন কোচ মরিনহো। আর রিয়াল মাদ্রিদকে এনে দেন একবার স্প্যানিশ লা লিগা ও একবার কোপা দেল রে শিরোপা।

২০০৪-এ পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোকে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা এনে দিয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়েন কোচ হোসে মরিনহো। স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ কোচ মরিনহো ২০১০-এ ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে এনে দেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা।
সেবার সিরি আ এবং কোপা ইতালিয়া শিরোপা নিয়ে গর্বের ‘ট্রেবল’ পূর্ণ করেন কোচ মরিনহো। পরবর্তী ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ম্যানচেস্টার ইউনাটেডের খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। প্রিমিয়ার লীগ পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ দল চেলসি থেকে ১১ পয়েন্টে পিছিয়ে ম্যানইউ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্বে একবার ইংলিশ লীগ কাপ ও একবার ইউয়েফা ইউরোপা লীগ শিরোপার স্বাদ নিয়েছেন কোচ মরিনহো। আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্বে জয়ের হারটা খারাপ নয় কোচ হোসে মরিনহোর। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দায়িত্বকালে ১৪৪ ম্যাচে মরিনহোর জয় ৫৮.৩৩%। ম্যানইউ’র ২৫ বছরের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফারগুসনের রয়েছে ৫৯.৬৭% জয়। আর ডেভিড ময়েস ৫২.৯৪ এবং লুইস ভ্যান গালের জয় ৫২.৪৩%।॥

এক নজরে মরিনহোর কোচিং ক্যারিয়ার
দল ম্যাচ জয় ড্র হার জয় %
বেনফিকা (২০ সেপ্টে. ২০০০-৫ ডিসে. ২০০০) ১১ ৬ ৩ ২ ৫৪.৫
ডি লেরিয়া (জুলাই ২০০১-২৩ জানু. ২০০২) ২০ ৯ ৭ ৪ ৪৫.০
পোর্তো (২৩ জানু. ২০০২-২ জুন ২০০৪) ১২৭ ৯১ ২১ ১৫ ৭১.৭
চেলসি (২ জুন ২০০৪-২০ সেপ্টে. ২০০৭) ১৮৫ ১২৪ ৪০ ২১ ৬৭.০
ইন্টার মিলান (২ জুন ২০০৮-২৮ মে ২০১০) ১০৮ ৬৭ ২৬ ১৫ ৬২.০
রিয়াল মাদ্রিদ (৩১ মে ২০১০-১ জুন ২০১৩) ১৭৮ ১২৮ ২৮ ২২ ৭১.৯
চেলসি (৩ জুন ২০১৩-১৭ ডিসে. ২০১৫) ১৩৬ ৮০ ২৯ ২৭ ৫৮.৮
ম্যানইউ (২৭ মে ২০১৬-১৮ ডিসে. ২০১৮) ১৪৪ ৮৪ ৩২ ২৮ ৫৮.৩

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password