তাসকিন-সানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে দুই আম্পায়ার

টুর্নামেন্ট-সিরিজের পর মার্চে বাংলাদেশ খেলতে গেল ভারতের মাটিতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৯ মার্চ প্রথম লড়াইয়ে নামলো নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে। দারুণ বোলিং-ব্যাটিংয়ে সেদিন অনায়াসে ডাচদেরও হারিয়ে দিলো বাংলাদেশ। মেতে উঠলো বিজয়ের আনন্দে।

কিন্তু কে জানতো এই বিজয়ের আনন্দের আড়ালে বিষাদের মেঘ ওড়াচ্ছেন আম্পায়াররা? কে জানতো তারা কতো বড় ধাক্কা নিয়ে আসছেন পারফরম্যান্স বিবেচনায় উড়তে থাকা বাংলাদেশের জন্য?

ওই ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন সুন্দরম রবি ও রড টাকার। এদের মধ্যে প্রথমজন ভারতীয়, আর দ্বিতীয়জন অস্ট্রেলিয়ান। দু’জনই ‘আইসিসি এলিট আম্পায়ার প্যানেল’র সদস্য। আর টিভি আম্পায়ার ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সিবি গ্যাফেনে এবং ম্যাচ রেফারি ছিলেন জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি পাইক্রফট।

দুই অনফিল্ড আম্পায়ার ম্যাচের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেন তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে। রিপোর্টে দু’জনের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেন তারা। বিষয়টি জানানো হয় বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকেও।

অথচ সন্দেহজনক অ্যাকশনের রিপোর্ট যে দুই আম্পায়ার করেন তাদের মধ্যে রড টাকার এবং ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট তার আগে বহু ম্যাচে বাংলাদেশের খেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

এই বিস্ময়কর অভিযোগে সমালোচনার ঝড় ওঠে ক্রিকেটাঙ্গনে। আগের বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনালে যে ধরনের ‘ষড়যন্ত্রে’র অভিযোগ ছিল, ঠিক সে রকমই ‘ষড়যন্ত্র’ খুঁজতে থাকেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

এমনকি ক্ষুব্ধ হয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন খোদ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও। তিনি সেসময় বলেন, “আইসিসি যেমন আমার বোলারদের নিয়ে কনসার্ন দেখিয়েছে, তেমনি আমারও কিন্তু তাদের পদক্ষেপ নিয়ে কনসার্ন হচ্ছে। কারণ আমি অন্তত তাসকিন বা আরাফাতের অ্যাকশনে কোনো ভুল কিছু দেখিনি। বোধ হয় প্রায় বারো মাস ধরে তারা এই একই অ্যাকশনে বল করে আসছে। এর মাঝে তারা আইসিসির একাধিক টুর্নামেন্টে খেলেছে। সেখানে তো তাদের আম্পায়ার বা ম্যাচ রেফারিরাই অফিসিয়েট করেছেন। কাজেই এ ম্যাচে তারা হয়তো অন্য রকম কিছু দেখেছেন। এর বেশি আমি আর কীই বা বলতে পারি!”

এই ক্ষোভ-সমালোচনার মধ্যেই আইসিসির বেধে দেওয়া সময়ে চেন্নাইয়ে অনুমোদিত পরীক্ষাগারে শুদ্ধি পরীক্ষা দিয়ে আসেন তাসকিন ও সানিরা।

সে পরীক্ষার ফলাফলে দু’জনকে ‘অকৃতকার্য’ ঘোষণা করা হয় এবং তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়। বলা হয়, সংশোধন হয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত আর বোলিং করতে পারবেন না তারা।

কিন্তু ওই শুদ্ধি পরীক্ষার পদ্ধতি এবং তার ফলাফল নিয়েও সেসময় সমালোচনা হয়। অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা আইসিসির বিধান, তাসকিনদের অ্যাকশনের পরীক্ষা পদ্ধতি ও ফলাফল নিয়ে ‘অসংলগ্ন’ নানা তথ্য তুলে ধরেন। এ নিয়ে বরাবরের মতো ‘ষড়যন্ত্র’র বিষয়টিই সামনে আসে।

তবে সেসব আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তাসকিন-সানিদের সংশোধন প্রক্রিয়ায় পাঠায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ কয়েক মাস নিরলস পরিশ্রমের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তাসকিন ও সানিরা অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে আইসিসির পরীক্ষাগারে আবারও তাদের অ্যাকশনের শুদ্ধি পরীক্ষা দিয়ে আসেন।

সব দুশ্চিন্তার মেঘ কাটিয়ে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝলমলে রোদের মতো খবর দেয় আইসিসি। তারা ঘোষণা দিলো, তাসকিন আর সানির বোলিং অ্যাকশন আর অবৈধ নয়। তারা ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করতে পারবেন।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password