দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার মতো কিছু হয়নি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার মতো কিছু হয়নি। তিনি বিদ্রুপ করে বলেন মধ্যবর্তী নির্বাচন কী যমুনায় ভেসে আসবে? নির্বাচনে অংশ নেয়া, ভোট দেয়া সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার। যারা নির্বাচনে আসেনি, তারা গণতন্ত্রকে অসম্মান করেছে।

নিউইয়র্কে গত ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশন কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তিনি দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সরকারের সফলতা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসা করতে আসিনি, সেবা করতে এসেছি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদ আলী ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২-লাখ নির্যাতিতা মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ সালাম। গত ১৯ থেকে ২১শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের বিভিন্ন বৈঠকে আমি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেই।

কয়েকটি কারণে এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত: বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ইউরোপে চলমান শরণার্থী সঙ্কট ও অভিবাসন সমস্যা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে অন্যান্য দেশে লক্ষ লক্ষ আশ্রয় প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়গুলো এবারের অধিবেশনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। দ্বিতীয়তঃ মধ্যপ্রাচ্যে আইএস-সহ বিশ্বব্যাপী সহিংস জঙ্গি তৎপরতার উত্থান এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের আওতায় আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতৈক্য পরিলক্ষিত হয়। তৃতীয়তঃ এবারের অধিবেশনকালে গত বছরের শেষদিকে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়া ঐতিহাসিক ঐতিহাসিক Addis Ababa Action Agenda টি -টি বাংলাদেশসহ বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্র অনুসমর্থন করে। চতুর্থতঃ একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে গত বছর জাতিসংঘের নেতেৃত্বে ঐতিহাসিক World Humanitarian Summit ছাড়াও বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গৃহীত হয়।

১৯ সেপ্টেম্বর আমি জাতি সংঘের প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখি। অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যুতে বংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো আমি তুলে ধরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোর যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরণার্থী, জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার আহবান জানাই। অভিবাসন ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বৈশ্বিক ফোরাম এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের রূপরেখা প্রণয়নে সক্রিয়, দৃশ্যমান ও নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে যাবে বলে আমি অঙ্গীকার ব্যক্ত করি। একই সামিটের অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী মি. স্টেফান লভেন-এর সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকে যৌথ-সভাপতিত্ব করি। বিশ্বব্যাপী সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি।

আপনারা জানেন, আমার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় আমর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনমূলক চিন্তা-ভাবনার ফলেই বাংলাদেশ এত দ্রুত তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” বিনির্মাণে এবং “সুশাসনে তথ্য-প্রযুক্তি” খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্লান ট্রিফিনিও গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপ্মেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে তাঁকে সম্মানজনক “আইসিটি ফর ডেভেলপ্মেন্ট” পুরস্কারে ভূষিত করে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। মা হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি আশা করি জয় জাতির পিতার স্বপ্নের “সোনার বাংলাদেশ” গড়ে তোলা এবং “রূপকল্প ২০২১” ও “রূপকল্প ২০৪১” বাস্তবায়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

এবারে আমাকে পৃথক দুটি পুরস্কারে ভূষিত করে। ২১ শে সেপ্টেম্বর আমি এ দুটি পুরস্কার গ্রহণ করি। নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে জাতিগঠনমূলক কাজে লাগোনোর ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ দু’টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। এসময় আমি আমার বক্তব্যে সরকারের “ডিজিটাল বাংলাদেশ” কর্মসূচি ও “এটুআই প্রকল্প”-এর আওতায় বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরি। একই সঙ্গে, পাবলিক সেক্টরের বিভিন্ন উদ্ভাবনসমূহ এবং সৃজনশীল উদ্যোগ বিনিমিয়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে একটি প্রকল্প প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করি। ২০ সেপ্টেম্বর নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী মিজ্ এরনা সোলবার্গ-এর আমন্ত্রণে আমি এক শীর্ষক বৈঠকে যোগ দেই। এ সময় আমি নারী শিক্ষাকে সহিংস জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বন্ধের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করি। একইদিন বিকেলে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে বিশ্বের আরও ৩১ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে এক শীর্ষক বৈঠকে যোগ দেই।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password