সালমান শাহ আমার জীবনের অংশ : নাহিদ ইমন

চলচ্চিত্রের চিরসবুজ নায়ক সালমান শাহ’র ৪৫তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে এফডিসিতে আগামী ২৯শে সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদ আলোচনা সভা, কেক কাটা, সম্মাননা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সালমান শাহ’র জন্মদিনে লাখ ভক্ত তাকে স্মরণ করে থাকেন।  তেমনই এক ভক্তের নাম নাহিদ ইমন।  তিনি জানান, ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ মুক্তি পায় মহানায়ক সালমান শাহ্ বসের প্রথম মুভি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। তখন আমি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। সেই মুভিতে  প্রথম দেখেই ভালোবাসতে শুরু করি। টিফিনের টাকা দিয়ে বসের ভিউকার্ড পোষ্টার সংগ্রহ করতাম। শত কষ্টের পরেও তার সবগুলো মুভি হলে গিয়ে দেখতাম । ১৯৯৬ সাল আমি তখন এস এস সি পরীক্ষার্থী ছিলাম। সেই বছর আমার এই প্রিয় মানুষটি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর আমাকে দিশাহারা করেছিল।

12662552_1681123098813203_3533465547966928568_n

তিনি আরো বলেন, সেদিন আমার মনে হয়েছিলো, আমি যেন আমার কোন এক আপনজনকে হরিয়েছি। সেই বছর আর আমার পরীক্ষা দেয়া হয়নি। তার মৃত্যুর পার যে মুভিগুলো মুক্তি পেয়ে ছিলো, সেগুলো হলে দেখতে গিয়ে তার মুভি গুলোর প্রতিটি মুহূর্তে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। সেই সময় পাঁচ হাজার ভিউকার্ড আমার নিকট অত্যন্ত যত্নেরর সাথে ছিলো। আর সাথে ছিলো বসের ব্যবহৃত একটি টি-শার্ট। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় জীবিকার তাগিতে চলে গেলাম কোরিয়াতে। ছিলামও কিছু বছর। হঠাৎ একদিন খবর পেলাম বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমিও কোরিয়াতে বেশি দিন থাকতে পারলাম না। দেশে ফিরে আসলাম। তারপর ?? একদিন মা বললো, ‘নাহিদ তোর বাবা তোর জন্য ট্রাঙ্কের মধ্যে যেন রেখে গেছে’। আমি সাথে সাথে ট্রাঙ্ক খুলে দেখলাম, বসের যত ভিউকার্ড ছিলো, বাবা তা যত্ন করে রেখে গেছেন। এখন আমার বাবা ও সালমান শাহ্ বসও নেই আছে শুধু তাদের স্মৃতি। বসকে কটুকু ভালোবাসি বলতে পারবোনা, শুধু বলবো সালমান শাহ আমার জীবনের অংশ। এখনও কথা বলা শেষ হয়নি তার। আবার বলা শুরু করলেন।

‘২০১০ সালে যখন প্রথম ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করি, ফেসবুকে সালমান শাহ্ বসকে নিয়ে লেখালেখি এবাং বসের ছবিগুলো না দেখে অবাক হয়ে গেলাম। মনটা খুব খারপ হয়ে গিয়েছিল। তখন নিজে থেকেই প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি এবার নতুন করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ফেসবুকের মাধ্যমে সালমান শাহ বসকে তুলে ধরবো। আমার ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিদিন ৩-৪টা করে বসের ছবি আপলোড করা শুরু করলাম। এই ভাবে চলে গেলো কিছুদিন এবং এর কিছু দিনের মধ্যই পরিচয় হয়ে গেল আমজাদ হোসেন পাবল, মাসুদ রানা নাকিব, আজমল, রাজ অহমেদ, আসাদুজ্জামান, আসিফ ইসলাম, ইমরানদের মত কিছু সালমান শাহ ভক্ত। এদের নিয়ে নতুন করে চলতে শুরু করলাম, যা আজও অব্যাহত আছে।

সালমান শাহ’র এই পাগল ভক্তের আরও কিছু চাওয়া : 

বিএফডিসিতে মৃত চলচ্চিত্রকর্মীদের একটি নামফলক রয়েছে, সেই তালিকায় সালমান শাহ’র নাম না থাকাটা আমাকে অনেক বেশি কষ্ট দেয়। সেখানে অনেক অভিনেতার নামে ফ্লোরের নামকরণ করা হয়েছে, কিন্তু এখানেও উপেক্ষিত আমাদের এই প্রাণের নায়ক। আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি মহানায়কের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএফডিসির সামনের সড়কটি অথবা বিএফডিসির অভ্যন্তরে একটি স্থাপনা বা সড়কের নামকরণ যেন করা হয়।

 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password