মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে আপিলে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মীর কাসেমের করা আবেদনের ওপর রবিবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়। ওই দিনই ৩০ আগস্ট মামলাটির রায়ের দিন নির্ধারণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আসামিপক্ষে রিভিউ শুনানিতে অংশ নেন মীর কাসেমের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। শুনানিতে মীর কাসেমের ফাঁসির দণ্ড পুনর্বিবেচনা চান তিনি।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আর্জি জানান। মীর কাসেম আলীর মামলাটি গত ২৫ জুলাই রিভিউ শুনানির জন্য উঠেছিল। ওই দিন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দুই মাস সময়ের জন্য আবেদন করলে আদালত এক মাস সময় মঞ্জুর করে ২৪ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। সেদিন মীর কাসেমের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন পুনরায় সময় আবেদন করলে তা নাকচ করে দেন আদালত। ওই দিন রিভিউ আবেদনের ওপর প্রথম দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কিছুক্ষণ শুনানির পর ২৮ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন আদালত। সে অনুযায়ী রবিবার রিভিউ আবেদনটি আবার শুনানির জন্য ওঠে। আর সেদিনই উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩০ আগস্ট রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

গত ১৯ জুন মীর কাসেম আলী আপিলে মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। ৮৬ পৃষ্ঠার আবেদনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়ে ফাঁসির দণ্ড থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। ওই আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করতে ২১ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ জুলাই দিন ধার্য করে তা পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এখন কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে তিনি প্রাণভিক্ষা না চাইলে কিংবা আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো বাধা থাকবে না।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম ১৯৮৫ সাল থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অর্থাৎ মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তিনি হলেন জামায়াতের পঞ্চম শীর্ষ নেতা, যার রিভিউয়ের রায় হতে যাচ্ছে আপিল বিভাগে। ২০১৩ সালে ট্রাইব‌্যুনালে যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় আসা শুরু করার পর সারা দেশে ব্যাপক নাশকতা চালায় একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামী। এর আগে জামায়াতের পাঁচ শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, মো. কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজ হওয়ার পর তাদের মৃত‌্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সে সময় প্রতিটি রায়ের পরই হরতাল ডেকে নাশকতার চেষ্টা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password