রিহ্যাব মেলায় ফ্ল্যাট কিনতে দেয়া হচ্ছে ঋণ

রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলায় তিনটি ব্যাংক ও পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তারা বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ঋণ দিচ্ছে। সে জন্য তাদের স্টলে খোঁজখবর নিচ্ছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। তবে ক্রেতা-দর্শনার্থীর অভিযোগ, এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া গৃহঋণের সুদহার এখনো বেশি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিহ্যাব আবাসন মেলার তৃতীয় ও চতুর্থ দিন শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি পড়ায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। রিহ্যাব জানায়, প্রথম তিন দিনে সাড়ে ১১ হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। গত বুধবার শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এ মেলা শেষ হচ্ছে আজ রোববার।

মেলায় অংশ নেওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে দি সিটি ব্যাংক, লংকা-বাংলা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল হাউজিং, আইপিডিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ডিবিএইচ ও আইডিএলসি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান লংকা-বাংলা ফিন্যান্স ব্যক্তি পর্যায়ে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দিচ্ছে। এই ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও এক বছর বাড়তি সুবিধা পাবেন ক্রেতারা। দি সিটি ব্যাংক ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদে ৫ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। তাদের ঋণ পেতে চাকরিজীবীদের ন্যূনতম মাসিক আয় ৩০ হাজার ও ব্যবসায়ীদের ৪০ হাজার টাকা হতে হবে।

ইবিএল ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। একটি স্টলে গৃহঋণের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন বেসরকারি চাকুরে শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সুদের হারটা অনেক বেশি। আমার যা মাসিক বেতন, তা দিয়ে কিস্তির টাকা দেওয়াটা বেশ কঠিন।’

এদিকে গতকালও নামীদামি আবাসন প্রতিষ্ঠানের স্টলেই ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় বেশি দেখা গেছে। মেলায় অ্যাসুরেন্স ডেভেলপমেন্টস তৈরি ও নির্মাণাধীন ৩৮টি প্রকল্প প্রদর্শন করছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৫০০ ফ্ল্যাট আছে। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকার গুলশান, বনানী, নিকেতন, ধানমন্ডি, উত্তরা বসুন্ধরা ও পুরান ঢাকায় ফ্ল্যাট আছে। ১,১০০ থেকে ২,৫৪০ বর্গফুট আয়তনের এসব ফ্ল্যাটের মূল্য প্রতি বর্গফুট ৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।

আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন ৪২টি প্রকল্পের প্রায় ৪০০ ফ্ল্যাট প্রদর্শন করছে মেলায়। ধানমন্ডি, গুলশান, পল্টন, বনানী, উত্তরা, মতিঝিল, শান্তিনগর ও মগবাজার এলাকায় ১,২০০-৬০০০ বর্গফুটের এসব ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।

আর আমিন মোহাম্মদ ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট ঢাকার মুগদা-মান্ডা এলাকার গ্রিন মডেল টাউনের ১ হাজার প্লট বিক্রির জন্য প্রদর্শন করছে। ২, ৫ ও ১০ কাঠা আয়তনের এসব প্লটের দাম কাঠাপ্রতি সাড়ে ২৬ লাখ থেকে সাড়ে ৫৪ লাখ টাকা। এমনটাই জানালেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা অমিত শাহ লিও।

আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক গুলশান, বারিধারা, শ্যামলী, বসুন্ধরা, সায়েদাবাদ, মিরপুর, গোপীবাগসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ২০টি প্রকল্প প্রদর্শন করছে। ১,২০০-৪,০০০ বর্গফুটের এসব ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ৭ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা।

নাভানা রিয়েল এস্টেট এবারের মেলায় ৭২টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প প্রদর্শন করছে। তাদের রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, বনানী, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা, পুরান ঢাকার ওয়ারী ও ধোলাইখালে প্রতিষ্ঠানটির ১,৪০০-৬,০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক এস এম মাসুদ রানা বলেন, মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য মিরপুরে ১,৪০০-২,২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে।

বাংলাদেশ সময় : ১৬৩৬ ঘন্টা, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password