ফাইনালে বরিশাল

স্পোর্টস ডেস্ক :

প্রতিপক্ষের ছুড়ে দেওয়া ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে যা করেছেন বরিশাল বুলসের এ ব্যাটসম্যান, তা নিঃসন্দেহে এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দামি ইনিংস। সাব্বিরের ৪৯ বলে ৭ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় গড়া ৭৯ রানের ইনিংসে ভর করেই যে রংপুর রাইডার্সকে ৩ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সঙ্গী হয়েছে বুলস, যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

মিরপুরের উইকেটের ধরনের কারণেই টস জিতে রংপুরের করা ৯ উইকেটে ১৬০ কে মনে হচ্ছিল যথেষ্ট। এরপর মাত্র ১০ রানে বুলসের দুই ওপেনারের বিদায়ে ‘মাশরাফি বনাম সাকিব’ ফাইনালের কল্পচিত্র তৈরিতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন অনেকে। কিন্তু আগের ম্যাচে ফর্মে ফেরা সাব্বিরের সঙ্গে এদিনটাকেই যে নিজের সামর্থ্য মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন শাহরিয়ার নাফীসও।

একাদশেই জায়গা হারিয়েছিলেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। গেইল চলে না গেলে হয়তো টিম কম্বিনেশনের কারণে গতকালও বসে থাকতেন ডাগ আউটে। এমন অবস্থায় নিজের সামর্থ্য জানান দেওয়ার জন্য যা করা দরকার, ঠিক সেটাই করেছেন শাহরিয়ার। সুযোগ পেলেই স্ট্রাইক দিয়েছেন সাব্বিরকে, স্ট্রোক খেললেও তুলে মারেননি তিনি। অন্যদিকে গত ম্যাচেই প্রত্যাশিত ব্যাটিং প্রদর্শনী করা সাব্বির ছুটেছেন রানের পেছনে। তাঁর ব্যাটে রেহাই পাননি রাইডার্সের কোনো বোলারই।

সাকিবের বিপক্ষেও যেখানে সাব্বিরের স্ট্রাইক রেট দুই শরও বেশি, সেখানে অন্যদের পরিণতি বোধগম্য। অন্যদিকে রান আউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৪৪ রানের সময়োপযোগী ইনিংস খেলে গেছেন শাহরিয়ার। তাতে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১২৪ রান যোগ হয়েছে বুলসের ইনিংসে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এমন একটা জুটি অনায়াসে গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য, কালও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

বিশ্রাম পাওয়া উইকেট বলেই টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে থাকবেন সাকিব। এরপর চমকে দিতেই কিনা, লেন্ডল সিমন্সের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে তিনি পাঠিয়ে দেন আব্দুল্লাহ আল মামুনকে, যা তাঁর এ আসরে প্রথম ম্যাচ। সে বাজিতে জিতেছিলেন সাকিব। উদ্বোধনী জুটিতেই যে তাঁরা তুলে দিয়েছিলেন ৫২ রান। রাইডার্সের দেড় শ পেরোনোর মঞ্চে ৫৭ বলে ৭৩ রানের দারুণ একটা ইনিংস খেলেছেন সিমন্সও। এরপর ড্যারেন সামির ১০ বলে ২৩ রানের মিনি ঝড়ের সঙ্গে যদি অধিনায়ক নিজেও ব্যাটে অবদান রাখতেন, তাহলে বরিশালের সামনে গন্তব্য আরো দূরে নিয়ে যেতে পারত রংপুর। তবে এ হারও ড্যারেন সামির ওই ক্যাচের মাহাত্ম্য সামান্য বিবর্ণ করছে না। টিসারা পেরেরার বল মিড উইকেট সীমানা পার করার জন্যই চালিয়েছিলেন সাব্বির, অভীষ্ট লক্ষ্যে বল উড়ে যাচ্ছিলও।

কিন্তু অতর্কিতে শরিরটাকে শূন্যে ভাসিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ান সামি। দক্ষ ফ্লোর জিমন্যাস্টের মতো শরীরের ভারসাম্য রেখে যে ক্যাচটা নিয়েছেন এ ক্যারিবীয়, তা অনায়াসে জায়গা করে নেবে ২০১৫ সালের সেরা ক্যাচের তালিকায়। কে জানে সেরাও হতে পারে! সাব্বিরের বীরোচিত ব্যাটিং আর সামির ওই ক্যাচ নিশ্চিতভাবেই ঘুচিয়েছে গেইলের অনুপস্থিতির আক্ষেপ।

প্রাইভেট লিগে হার-জিত নিয়ে আমোদিত হতে বয়েই গেছে সাধারণ ক্রিকেট দর্শকের, বরং ব্যক্তিগত দ্যূতির ঝলকানি রং বাড়ায় বিপিএল টাইপ আসরের।

বাংলাদেশ সময় : ০৯৩১ ঘন্টা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password