পৌর নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই : ইসি

নিউজ ডেস্ক :

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সেনা বা নৌবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের। নির্বাচনে চার দিনের জন্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, র‌্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোট গ্রহণের আগের দু’দিন, ভোট গ্রহণের দিন ও পরে একদিন মাঠে থাকবে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর ১৯ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে ৮ জন অস্ত্রধারীসহ মোট ২০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। ওই চার দিনের জন্য মাঠে থাকবেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এছাড়া ভোটের আগে পৌরসভাগুলোতে চিহ্নিত অপরাধী, চাঁদাবাজ, মাস্তান, অস্ত্রবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। পৌর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এমন নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনার খসড়া কার্যপত্র তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

২৩৪টি পৌরসভায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে চার ধাপে আড়াই শতাধিক পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তখন র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে কমিশন থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের চাওয়া হচ্ছে না।

তবে র‌্যাব ও বিজিবির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন ‘স্ট্যাটিক ফোর্স’ হিসেবে ভোট কেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব ও পুলিশের টিম নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে কার্যপত্রে। যদিও সহিংসতার আশংকায় ইতিমধ্যেই এনপিপি এ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।

ইসির কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্তত ২০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পৌরসভাগুলোর নির্বাচনী এলাকার আকার এবং জনসংখ্যা বড় নয়। এসব বিবেচনায় পৌর নির্বাচনে সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। তবে বিএনপি জোট নির্বাচনের কোনো পর্যায়ে বয়কট করলে সহিংসতা হতে পারে বলে আশংকা তাদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পৌর নির্বাচন নির্বিঘ্ন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃংখলা বৈঠকে ৬টি এজেন্ডা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- প্রাক নির্বাচনী আইনশৃংখলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, নির্বাচনপূর্ব শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে করণীয় স্থির করা, সন্ত্রাসী, মাস্তান ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতার এবং তাদের দৌরাত্ম্য রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ। বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রম গ্রহণ এবং নির্বাচনী দ্রব্যাদি পরিবহন ও সংরক্ষণের নিরাপত্তা বিধান। নির্বাচনী আইন এবং আচরণবিধিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা সুষ্ঠুভাবে পরিপালনের পরিবেশ সুগম করা এবং ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।

সভায় সব রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি ও কোস্টগার্ডসহ সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকের জন্য তৈরি করা কার্যপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিশৃংখলা রক্ষার্থে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড মোতায়েন করা যেতে পারে।

প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি মোবাইল ফোর্স হিসেবে ২ হাজার ১৯৩টি, প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৭৩১টি, প্রতিটি পৌরসভায় র‌্যাবের কমপক্ষে একটি টিম (প্রাপ্যতা সাপেক্ষে), প্রতিটি পৌরসভায় এক প্লাটুন বিজিবি (প্রাপ্যতা ও গুরুত্ব অনুসারে) এবং উপকূলীয় পৌরসভায় এক প্লাটুন করে কোস্টগার্ড মোতায়েন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে বলা হয়েছে, সামগ্রিক নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা বিধানে সব আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগ ইত্যাদির দায়িত্বে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার।

কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বিগত পৌর নির্বাচনে আইনশৃংখলা রক্ষায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এবার পৌর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরদিন থেকে নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি পৌরসভায় ১ জন এবং ভোট গ্রহণের দুই দিন আগ থেকে পরের দিন পর্যন্ত মোট চার দিনের জন্য প্রতি ৩টি ওয়ার্ডের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে। ১৮টি কম ওয়ার্ডের প্রতি পৌরসভায় একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চার দিন মাঠে থেকে তাৎক্ষণিক বিচারকার্য পরিচালনা করবেন।

সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের স্বার্থে যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় ২৯ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত যান এর আওতামুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ সময় : ১২৪৩ ঘন্টা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password