প্রধানমন্ত্রীকে করভি রাখসান্দের খোলা চিঠি

নিউজ ডেস্ক :

সম্প্রতি সরকার থেকে আরোপ করা ফেসবুক বন্ধের নির্দেশনা নিয়ে দেশে সবার মধ্যেই একটি অদৃশ্যমান সংকট বিরাজ করছে। এ নিয়ে সুশীল সমাজের বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মন্তব্য করেছেন। সবাই এটির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো বিষয়কে আলাদাভাবে জানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তেমনিভাবে এই সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় তরুন সমাজসেবক জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফেসবুক সংকট নিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেন তার ফেসবুক পেজে। এই মূহুর্তে তিনি হংকং এ অবস্থান করায় সেখান থেকেই চিঠিটি লিখেছেন তিনি। চিঠিটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো____

প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আপনার হাত ধরেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছি, এই শব্দটি আপনি আমাদের মাথায় এমন ভাবে গেঁথে দিয়েছেন যে আপনার দেখানো পথে আমরা স্বপ্ন দেখেছি, বিভিন্ন ধরনের কাজ শুরু করেছি। হাজার হাজার তরুণ আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিজেরা তাদের পেশা বেছে নিয়েছে।

আজ প্রায় ১২ দিনেরও বেশি হতে চলল সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রয়েছে। হ্যাঁ দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এটা বন্ধ রেখেছেন, সবার ওপরে দেশ ও দেশের মানুষ, এদের নিরাপত্তা ও উন্নতির কথা আপনাকে সবসময় ভাবতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তা যেমনি আমাদের সবার আগে প্রয়োজন তেমনি যারা এই সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক রুটি-রুজি করে থাকে তাদের পরিবারের অবস্থাটাও কিন্তু অনেক করুণ।

সোশ্যাল মিডিয়াতে নানাধরনের মানুষ থাকে, কারও কাছে এটি স্রেফ মজা করার জায়গা কেউবা তার অপরাধের জায়গা হিসেবে বেছে নেয়। কিন্তু এর বাইরেও আরেকটি জগৎ আছে যেখানে এর ওপরই নির্ভর করে অনেকের জীবন ও জীবিকা।

আমরা জানি অনেক অপরাধই হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া’র দ্বারা, কিন্তু সবকিছুর যেমন ভাল আছে তেমনি তার খারাপ দিকটাতো আছেই। ছোট বড় অনেক ধরণের ই-কমার্স ব্যবসা গড়ে উঠেছে আমাদের দেশে, এরা সবাই তরুণ, বেকার না থেকে নিজেরা বেছে নিয়েছে এই পেশা। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর তথ্যমতে দেশে প্রায় ৭,৫০০ ফেইসবুক পেইজ এবং ৬০০ ওয়েব পেইজ (সূত্র– দ্যা ডেইলি স্টার) রয়েছে যারা সোশ্যাল মিডিয়া’র এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে ব্যবসা-বানিজ্য করছে। এছাড়া ই-কমার্সে প্রতি মাসে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। (সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন)

আর আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে অথবা অধ্যয়নরত অবস্থাতেই অনেক তরুণ এখন এ খাতটিকে বেছে নিয়েছে, এতে কিন্তু প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও আসছে। সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ থাকার জন্য আউটসোর্সিং এ অর্ডার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে নারীর ক্ষমতায়নে। এ শুধু আপনার দৃঢ় অবস্থানের কারনেই হয়েছে। এখন দেশের অধিকাংশ নারী বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত, আপনিই তাদের সাহস যুগিয়েছেন, পথ খুলে দিয়েছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে। একদিকে তারা যেমনি সংসার দেখছে তেমনি ছোট ছোট অনলাইন ব্যবসা খুলেছে, পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আজ তাদের ওই ব্যবসাটুকুও বন্ধ। যেই ছেলেটি বা মেয়েটি অনলাইনে একটি অর্ডার পেয়ে সেটি মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিয়ে আসে সে কতইবা আর বেতন পায়, কিন্তু তা দিয়েই সে তার পরিবারে সচ্ছলতা আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেই ছেলেটি বা মেয়েটি আজ বসে আছে, ও অপেক্ষা করছে আবার কবে অর্ডার আসবে!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সালমা, সুমিদের মত অনেক মেয়েরা সেই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আউটসোর্সিং করছে, এটি শুনলে যেমনি আমরা আনন্দিত হই তেমনি আপনিও তৃপ্তির হাসিটুকু নিশ্চয়ই দেন। করিম চাচা যখন তার ছেলে বা ভাতিজার মাধ্যমে অনলাইন থেকে শহরে ফসলের দামটুকু জেনে নেন তখনও আপনি নিশ্চয়ই খুশি হন জেনে, কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে। সালাম বা জসিম কিন্তু এখন অনায়াসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন গ্রাম থেকে করতে পারে ওদেরকে কষ্ট করে সেই গ্রাম থেকে বার বার শহরে আসতে হয়না।

অনেক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যও কিন্তু এখন জেনে নেয়া যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া’র মাধ্যমে। গর্ভবতী মেয়ে জেনে নিচ্ছেন তার অনাগত সন্তানের পরিচর্যার বিষয়গুলো। রহিমা বুবু কিন্তু জেনে নিচ্ছেন তার সন্তানকে কী খাওয়াতে হবে, সচেতন হচ্ছেন সন্তানের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে। এই খবরগুলো শুধু আমাদেরকেই আনন্দে ভাসায়না, আমি জানি আপনিও শিহরিত হন, এতো আপনারই দেশ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সবকিছুই আপনার নজরে আছে, আপনি এও জানেন অনেক ইভটিজার ধরা পড়েছে কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়া’র দ্বারা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় এক রাতেই আমরা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিলাম ২০০০ অক্সিজেন, সেটা কিন্তু কিছু মানুষের ফেইসবুক পোষ্টের দ্বারা। আজ অনেক মুমুর্ষু রোগীর রক্তের জোগাড় হচ্ছে এই মাধ্যমটির সহায়তায়।

অপরাধ যে করবে সে বিকল্প রাস্তা সবসমই খুঁজে নিবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি জানি আমাদের নিরাপত্তার জন্য আপনি আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, কিন্তু যেই মানুষগুলো সোশ্যাল মিডিয়া’র ওপর নির্ভরশীল তাদের জীবিকার পথটির কথাও হয়তো আপনি চিন্তা করবেন। অপরাধীকে ধরার অনেক উপায় আছে, আপনি অবশ্যই সেটা বিবেচনায় নিবেন।

আপনিই আমাদের সর্বশেষ ভরসা, আপনার কাছে একান্ত অনুরোধ আপনি এই বিষয়টি দেখবেন এবং আমরা আশা করছি অপেক্ষায় থাকা ছেলে মেয়েগুলো আবার অর্ডার পাবে, মাস শেষে বেতন নিয়ে ফিরবে প্রিয়জনের কাছে।

অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

করভী রাখসান্দ,
বাংলাদেশের একজন নাগরিক

করভি রাখসান্দ বর্তমানে ২২ টি দেশের মধ‌্যে বাংলাদেশের একজন হয়ে ‘ এশিয়া ২১ লিডারশীপ ২০১৫ ‘ নামে এক বার্ষিক সভায় অংশ গ্রহন করার জন্য  হংকং এ অবস্থান করছেন।  এই সভাটি চলবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত । সেখানে করভি রাখসান্দ এশিয়ার ২১ জন তরুন নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিবেন ।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৩ ঘণ্টা, ০২ ডিসেম্বর , ২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password