তথ্য জানার চুক্তি করতে ফেসবুককে চিঠি দেবে সরকার

প্রযুক্তি ডেস্ক :

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য জানতে একটি চুক্তি করার লক্ষ্য নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেবে সরকার। কাল রোববার এই চিঠি দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

‘নিরাপদ ইন্টারনেট: আগামী প্রজন্ম ও আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ কথা বলেন। আজ শনিবার সকালে ডেইলি স্টার ভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গ্রামীণফোন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার যৌথভাবে এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

তারানা হালিম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আমি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ওই চিঠি লিখব।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের অপব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোররা নানা ধরনের ঝুঁকিতে থাকে, বিশেষ করে মেয়েরা। সমস্যা সমাধানে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও বেশি করে কাজ করতে হবে।

আলোচনার শুরুতেই গ্রামীণফোন পরিচালিত একটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার অথবা এরা ইন্টারনেটে উত্ত্যক্তকারীদের অশোভন বার্তা পেয়েছে। এদের বেশির ভাগই ছাত্রী।

গবেষণায় বলা হয়, ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, ইন্টারনেটে কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের সাহায্য বা দিকনির্দেশনা দেওয়ার কেউ নেই। কারণ, বিদ্যালয়, শিক্ষক বা অভিভাবকেরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সক্ষম নন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে তাদের মা-বাবা ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করার চেয়ে বেশির ভাগ সময়ই বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোররা কীভাবে ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পর্নোগ্রাফিসহ নানা বাজে সাইটে ঝুঁকে পড়ছে, সেসব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ইন্টারনেটের যেমন খারাপ দিক আছে, তেমনি ভালো দিকও আছে। কিন্তু অভিভাবকেরা বেশির ভাগ সময়েই এগুলো বুঝতে চান না।

আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ হয়, তাতে নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। মাত্র ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন কাউন্সিলর থাকলে শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারতেন। কিন্তু সেটি নেই। এখন যদি মোবাইল অপারেটরগুলো স্বাস্থ্য, কৃষির মতো এমন একটা নম্বর রাখতেন, যেখানে ফোন করে এই সমস্যার সমাধান করা যেত…।’ ফোন কোম্পানিগুলোকে তিনি এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

তারানা হালিম আরও বলেন, ইন্টারনেটে কিছু লোকজন সাম্প্রদায়িকতা ও উসকানি ছড়াচ্ছে। এসব প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে। দেশের বাইরে থেকে যেসব আপত্তিকর উপাদান আসে, সেগুলো যাচাইবাছাইয়ের জন্যও কাজ চলছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, সিএসআর সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহমীন এস জামান, ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আসিফ সালেহ, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অফিসার মাহমুদ হোসেন, সেভ দ্য চিলড্রেনের ব্যবস্থাপক লায়লা করিম, ইউনিসেফের কর্মকর্তা জামিলা আক্তারসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩৩০ ঘণ্টা, ২৮ নভেম্বর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password