বেড়েই চলছে শীতকালীন সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম

অর্থ ও বানিজ্য ডেস্ক :

কয়েক সপ্তাহ নির্দিষ্ট দামে স্থির থাকার পর ফের বাড়লো নিত্যপণ্য পিঁয়াজ ও রসুনের দাম। শুক্রবার ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পিঁয়াজে মানভেদে দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে মসলাপণ্য আদার দাম কমেছে।

এদিকে সবজির মৌসুমে বাজারে সবজির মূল্য আশানুরূপ কমছে না। এ সপ্তাহেও প্রতিকেজি আলু ৩৪-৩৫ টাকায় আর নতুন গোল আলু ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পিঁয়াজ-রসুনের বাজার সম্পর্কে ঢাকার ফকিরের পুল বাজারের খুচরা দোকানি মো. খোকন বলেন, “রোজার ঈদের পর থেকে পিঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, যা কোরবানির ঈদের পরেও স্থির হয়নি। ওই সময় একশো টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে। তবে পরবর্তীতে এর মূল্য কিছুটা সাভাবিক হয়ে অক্টোবর মাসে ৪০-৪৫ টাকায় নেমে আসে।”

তিনি আরো বলেন, “শুক্রবার প্রতিকেজি দেশি পিঁয়াজ ৬০-৭৫ টাকায় বেচেছি। আর কিনেছি প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায়। একইসঙ্গে বাজারে দাম বেড়েছে রসুনের। দেশি রসুন মানভেদে প্রতি কেজি ৭০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

জানা গেছে, জুন মাসের শেষদিকে দেশের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার (ঘূর্ণিঝড় কোমেনের) সুযোগে নিত্যপণ্যের দোকানিরা মানভেদে দেশি ও আমদানি করা ৩০-৩৫ টাকার পিঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বেচতে শুরু করে। যা পরবর্তী আগস্টের প্রথম তিন সপ্তাহ স্থির থাকে। এ মাসের শেষদিকে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পিঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকায়, কোনো সপ্তাহে একশো বা তার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত বাজার মনিটরিং টিম, গোয়েন্দা সংস্থা এবং দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত পূর্বাভাস সেল বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, দেশে পিঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। মজুদ ও আমদানি পরিস্থিতি যে অবস্থায় রয়েছে তাতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতি বছর ২৪-২৬ লাখ মেট্রেক টন পিঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের এক লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। একি অর্থবছরে আমদানি হয় পাঁচ লাখ ২৪ হাজার টন।

যাথাক্রমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক লাখ ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ১২ হাজার টন। আমদানি হয়েছে চার লাখ ৩৯ হাজার তিনশো ১২ টন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে পিঁয়াজ আমদানি হয় পাঁচ লাখ ৫২ হাজার টন। পরিসংখ্যান বলছে, দশ মাসে দেশে চার লাখ হাজার টনের বেশি পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

এদিকে শীতকালিন সবজির বাজারে দুই সপ্তাহ ধরে মূল্য পরিবর্তন হচ্ছে না। সবজির ভরা মৌসুমে দাম না কমায় অনেকটা আশাহত হচ্ছে ক্রেতারা। এজন্য পাইকারি বাজারকে দায়ী না করে খুচরা দোকানিদের ঘাড়ে তারা দোষ চাপান। আর দোকানিরা জানান, পণ্যের পাইকারি মূল্যের সঙ্গে যাতায়াত খরচ যোগ করে দাম নির্ধারণ করার কারণে এমনটি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ৭০-১০০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকা, ধনিয়া পাতা প্রতি কেজি একশো ৫০ একশো ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শীতের সবজির মধ্যে (কেজি প্রতি) দেশি শসা ৪০ টাকা, হাইব্রিড শসা ২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৩০ টাকা, শিম প্রকারভেদে ৩৫-৫০ টাকা, করল্লা ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, গাজর পুরাতন ৮০ টাকা ও নতুন একশো টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, মাঝারি আকারের বাঁধাকপি ২৫-৩০ টাকা, ফুলকপি ৩০-৪০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, মূলা ১৫-২০ টাকা এবং নতুন আলু ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময় : ১৬১৫ ঘন্টা , ২৭ নভেম্বর , ২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password