তরুণদের ছাড়া একা কোনো কিছুই করা সম্ভব না : করভি রাখসান্দ

করভি রাখসান্দ এ সময়ের একজন সফল তরুণ। তিনি মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ২০০৭ সালের ১৪ই এপ্রিল থেকে ‘ জাগো ফাউন্ডেশনের ‘ যাত্রা শুরু করেন।এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এ পর্যন্ত অনেক সম্মান ও সম্মাননা কুড়িয়েছেন তিনি ‘ জাগো ফাউন্ডেশনের ‘ মাধ্যমে। তার সঙ্গে কথা বলে এই সাফল্যের খানিকটা অংশ তুলে ধরেছেন মুষান্না ইমি….

জাগো ফাউন্ডেশনের জন্ম কিভাবে হয়েছে ?

করভি : ছোটবেলা যখন নিজে স্কুলে যেতাম তখন থেকেই ভাবতাম সুবিধা বঞ্চিত বাচ্চারা কিভাবে স্কুলে যাবে? একবার কিছু বাচ্চাকে রাস্তায় পাতা কুড়াতে দেখে তাদেরকে বললাম আমিও তোমাদের সাথে খেলবো, আমাকে নিবে তোমাদের সাথে খেলতে? তখন বাচ্চাগুলো আমাকে উত্তরে বললো, আমরাতো খেলছি না আমরা পাতা কুড়াচ্ছি এগুলো বিক্রি করে আমরা ভাত খাবো। তখন ঐ বাচ্চাদের কথা শুনে মনে মনে ভাবলাম এইরকম কত লাখ শিশু রাস্তায় পাতা কুড়াচ্ছে! যেখানে ওদের এখন স্কুলে যাওয়ার কথা, ঠিক ঐ মুহূর্তের চিন্তাটাই আমাকে জাগো ফাউন্ডেশন গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

আপনারা কয় ভাইবোন ?

করভি : আমরা তিন ভাইবোন এর মধ্যে আমি সবার বড়। ছোট দু’জন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে আছে। আর আমার পুরো নাম করভি রাখসান্দ ধ্রুব। তবে আমি বাবা মায়ের খুব অাদরের বলে তারা অামাকে আদর করে ধ্রুব নামে ডাকে।

আজকের করভি রাখসান্দ ছোটবেলা থেকে কি ভাবতেন?

করভি : ছোটবেলা থেকে চিন্তা করতাম আর্মি অফিসার হবো। কারণ আমার ভাবনার পুরোটা জুড়ে ছিলো সবসময় বাংলাদেশের সেবা করবো। আজকে যে অবস্থানে এসেছি সেটা কখনো আমার চিন্তায় ছিলো না। বন্ধু- বান্ধব, পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের চেষ্টায় আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি।

DSC_9753

সময়ের তরুণদের নিয়ে আপনার ভাবনা কতটুকু? এখনতো অনেক তরুণ উদ্দ্যোগী সংগঠন হয়েছে তাদের নিয়ে কিছু বলুন?

করভি : বাংলাদেশের জনসংখ্যার দিক থেকে চিন্তা করলে তরুণদের ছাড়া একা কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। তরুণদের শক্তি,সাহস, উদ্যোগ আছে বলেই বর্তমানে অনেক তরুণ সংগঠন গড়ে উঠেছে। একটি ভালো সংগঠন গড়ে তুলতে হলে সবার উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব নয়। শুরুতে যেটা আমি পাইনি, যার কারণে ‌‌ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ গঠন করেছি যেখানে আজকে আমার সাথে ২০,০০০ ভলান্টিয়ার তাদের পুরোটা সাপোর্ট দিয়ে আমাকে সাহায্য করছে।

DSC_0034

বর্তমানে জাগোর কয়টি স্কুল আছে?

করভি : বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্তমানে জাগো ফাউন্ডেশনের ১৩টা স্কুল গড়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আরও স্কুল করার ইচ্ছা আছে।

প্রতিটা স্কুলেতো অাপনার যাওয়া সম্ভব হয়না বলে জানা গেছে, সেই জায়গায়টা কিভাবে পূর্ণ হয় ?

করভি : (এবার একটু হেসে), আমি আমার স্বপ্নটাকে এমন ভাবে বুনেছি যদি প্রতিটা জায়গায় কখনো আমি না যেতে পারি, তারপরও যাতে আমার কাজ ও আমার স্বপ্নটা মুছে না যায় এভাবেই পরিবেশ তৈরী করা হয়েছে। এখন যেভাবে চলছে ঠিক একই ধারায় তখনও চলবে।

নিউওয়ার্ক ভিত্তিক সংস্থা বছর আপনাকে সফল তরুণ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কি ?

করভি : নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সংস্থা এ বছরের ৮ জুলাই আমাকে এই সম্মাননা প্রদান করেন যেটা সত্যিই আমার জন্য বিশেষ পাওয়া। আমি মনে করি একজন ব্যক্তি হিসেবে নয় মূলত কাজের মূল্যায়নের জন্যই আ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। আমি এ পর্যন্ত বেশ কিছু আ্যাওয়ার্ড পেয়েছি যেগুলো শুধু আমার নয় এর পুরো কৃতিত্ব জাগো ফাউন্ডেশনের।

অনেক আ্যাওয়ার্ড তো পেয়েছেন এর পিছনেজাগো অবদান কতটুকু ?

করভি : (আবারো হেসে) দেখুন, অাজকের যতো আ্যাওয়ার্ড পাওয়া সবই কিন্তু ‘জাগো’ র কারণে। অবশ্যই সবটুকু ‘জাগো ফাউন্ডেশনের’ অবদান।

ভবিষ্যতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা আছে ?

করভি : নোবেল পুরস্কার সম্পর্কে আমার চিন্তার জায়গাটা একদম ভিন্ন। প্রতিটি মানুষই তার কাজের পরিচিতির জন্য পুরস্কার পেতে ভালোবাসে। জীবনে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আশা করি না তবে আমার জীবনে নোবেল পাওয়া হবে ঐদিন, যেদিন বাংলাদেশের প্রতিটি সুবিধা বঞ্চিত শিশু রাস্তায় পাতা না কুড়িয়ে বই হাতে স্কুলে যাবে নিজেকে শিাক্ষত করে ভবিষ্যতে অন্য আর একটি শিশুর দাযিত্ব নিবে।

জাগো ফাউন্ডেশন কি আপনার স্বপ্নের শেষ চূড়ায় পৌছাতে পেরেছে ?

করভি : না এখনো অনেকটা সময় বাকি আছে চুড়ায় পৌছাতে। মূলত এটির শেষ বলতে কিছু নেই। আমি শুধু বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় জাগো ফাউন্ডেশনের স্কুল প্রতিষ্ঠিত করতে চাই সেটা নয়, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি বাংলাদেশের বাইরেও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের দায়িত্ব নিতে। ইতোমধ্যে্ই এর কাজ শুরু করে দিয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল আফ্রিকাসহ অন্যান্য যেসব দেশে এখনো শিশুরা শিক্ষার আলো পায়নি তাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌছানোর চিন্তা রয়েছে এ অনলাইন স্কুলের মাধ্যমে।

????????????????????????????????????

জাগো ফাউন্ডেশনকে সহযোগীতা করছে কারা ?

করভি : জাগো ফাউন্ডেশনের এই সফল যাত্রায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বর্গ। এর মধ্যে গ্রামীনফোন, অগ্নি সিস্টেম ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসহ স্বনামধন্য ব্যাক্তিবর্গ যারা সবসময় আমার পাশে আছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

ইউসিডি ইউনিভার্সেল চিলড্রেন ডেনিয়ে কিছু বলুন ? কেন ইউসিডিকে এতোটা প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে ?

করভি : আমার লক্ষ্য একটাই তরুণদের কাছে শিশুদের ভবিষ্যত তুলে দেয়া আর সেটি অনেকটাই সম্ভব হচ্ছে ‘ ইউসিডি ইউনিভার্সেল চিলড্রেন ডে ‘ এর মাধ্যমে। তাই আমি মনে করি, তরুণরা তাদের দায়িত্বটা বুঝে নিয়েছে সেজন্য বিশ্ব শিশু দিবসটিকে পরবতীর্তে এই তরুণরাই পরিচালনা করবেন। যেহেতু তরুনদের হাতে শিশু দিবসের দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছি তারা তাদের দায়িত্বটা বুঝে নিয়েছে। এখন নতুন করে অন্য কোনো নতুন চিন্তা নতুন কোনো স্বপ্ন শিশুদের চোখে বুনে দেয়ার ভাবনা নিয়ে সামনে এগোতে চাচ্ছি।

১৯ নভেম্বর ‘ ইউসিডি ইউনিভার্সেল চিলড্রেন ডে ‘ উপলক্ষে হাজারো ভলান্টিয়ার সাথে নিয়ে মাঠে থাকার কথা ছিলো জাগো ফাউন্ডেশনের কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে সময়টি পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর এ দিনটি পালন হতে পারে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ সময় : ১৩৪২ ঘন্টা, ১৮ নভেম্বর, ২০১৫

 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password