স্টিভ জবস এর ব্র্যান্ডিং কে ফলো করার চেষ্টা করি : রিয়াজ আহমেদ

সফল মুখ ডেস্ক :

‘আমি ব্যবসার ক্ষেত্রে স্টিভ জবস এর ব্র্যান্ডিং কে ফলো করার চেষ্টা করি। আমার চিন্তা ও ভাবনা ব্যবসাকে নিয়ে। আমি বই পড়ে ব্র্যান্ডিং শিখিনি, আমি হাতে-কলমে ব্র্যান্ডিং শেখার চেষ্টা করছি।’ দেখা হতেই আন্তরিক ভাবে কথা গুলো বললেন ব্যাগ প্যাকার্সের কর্ণধার রিয়াজ আহমেদ বাবু।

দেশের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী যখন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য বলে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে তখন নিজের দেশের নিজের ব্র্যান্ডকে কিভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এমন চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন দেশের একমাত্র অফলাইন ও অনলাইনের ব্যাগ বিক্রির এই উদ্যোক্তা।

জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকার মোহাম্মদপুরেই। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসাটা তার বরাবরই পছন্দের। ব্যাগের প্রতি দুর্বলতা থেকেই ২০০৫ সালে শুরু করেন ব্যাগের ব্যবসা। ঠিক পাঁচ বছর পরই ২০১০ এর ১৪ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আসেন নিজের ভালবাসার কোম্পানি ‘ব্যাগ প্যাকার্স’। মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে একটি শো-রুম দিয়ে যাত্রা শুরু। এখন জাকির হোসেন রোডে প্রতিষ্ঠানটির সব মিলিয়ে তিনটি শোরুম।

‘আমি চাইলেই উত্তরার গ্রাহক পেতে পারি না। আর নতুন শোরুম খুলতেও দরকার প্রচুর বিনিয়োগ। কিন্তু আমি বাসায় বসেই আমার দোকানের সব ব্যাগ আপনার চোখের সামনে হাজির করতে পারি নিমিষেই।’ এই ধারণাকে বাস্তবায়িত করার জন্য ২০১৫ এর ১৪ ফেব্রুয়ারি ‍উদ্বোধন করেন ই-কমার্স সাইট “www.bagpackersbd.com”.

ব্যাগ প্যাকার্সের ওয়েবসাইট থেকে পনের’শ টাকা বা তার বেশি মূল্যের ব্যাগ কিনলে পরিবহন খরচ ফ্রি। তা দেশের যেকেনো প্রান্ত থেকেই হোক। ডেলিভারি দিতে সময় নেয়া হয় সর্বোচ্চ তিন দিন। পনের’শ টাকার নিচে ব্যাগ কিনলে পণ্যের পরিবহন খরচ মাত্র ১০০ টাকা। পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যাবে পণ্য হাতে বুঝে নেয়ার পর।

চাইলে ক্রেডিট কার্ড অথবা বিকাশের মাধ্যমেও মূল্য পরিশোধ করা যাবে। ওয়েবসাইটে রয়েছে ৫০০ এরও অধিক ডিজাইনের ব্যাগ। এসব ব্যাগের মধ্যে মহিলাদের জন্য ব্যাগই বেশি। এছাড়াও রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অফিসগামী মানুষের জন্য বাহারী ব্যাগ।

‘ব্যবসা বলতে শুধু পণ্য বিক্রি করা নয়, গ্রাহকের সঙ্গে হেসে কথা বলা অথবা তার চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করাটাও ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত।’ বলছিলেন রিয়াজ আহমেদ বাবু। অনলাইনে প্রতিদিন ৩ হাজার গ্রাহক ব্যাগপ্যাকার্সের ওয়েব সাইট পরিদর্শন করেন। যুবক না যুবতী? পুরুষ না মহিলা? শিশু না বৃদ্ধ? গরীব না বড়লোক?

কারা আপনাদের গ্রাহক এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা সব গ্রাহকের কথা মাথায় রেখেই পণ্য আমদানি করে থাকি। সীমিত আকারে ব্যাগপ্যার্কাস কিছু ব্যাগ তৈরিও করে থাকে। আমাদের তিনটি শোরুমের মধ্যে একটিতে শুধু মহিলাদের জন্য ব্যাগ বিক্রি ও প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাকি দুইটিতে মহিলা-পুরুষ উভয়েরই দরকারী ব্যাগ মেলে। তবে মহিলারা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাগ বহন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই তারা নিয়মিত নতুন নতুন ব্যাগ কেনেন। এজন্য ক্রেতাদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি।’

2015_11_08_15_25_28_wKo1Ac0wiQzAHojBLvBL4PWRFpHhGv_original

অনলাইনে ব্যবসার ভবিষ্যত নিয়ে রিয়াজ আহমেদ বাবু বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘একটা সময় আমরা শোরুমের বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারতাম না। সারা পৃথিবীতেও পণ্য বিক্রির একমাত্র উপায় ছিল প্রদর্শনী কেন্দ্র। এখন সেই ধারণা বদলেছে। অ্যামাজন, ই-বে, ফ্লিপকার্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো

এখন সারা পৃথিবীতে গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। আমরা আশা রাখি একদিন সারা পৃথিবীতে আমাদের নিজের দেশের পণ্য পৌঁছাতে পারব এবং ব্যাগ প্যাকার্সের ব্যাগ বিক্রি হবে পশ্চিমা দেশগুলোতেও।’

ওয়ান ইস্টু ফাইভ। ফাইভ ইস্টু ফাইভ হান্ড্রেড। অনলাইন প্রচারণাটা হোক অফলাইনেও।’ এই তত্ত্বে বিশ্বাসী রিয়াজ আহমেদ বাবু বলেন, ‘অনলাইন ব্যবহারকারি মানুষদের আগ্রহী করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের হাতে রয়েছে।’

দেশে ই-কর্মাস ওয়েবসাইটগুলোর সম্প্রসারণে বাংলাদেশে সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্যাগ প্যাকার্সের স্বত্ত্বাধিকারী বলেন, ‘সরকার যেভাবে তথ্য প্রযুক্তি বান্ধব কর্মকান্ড নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে তা প্রশংসনীয়। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসিসেরও উচিত ব্র্যান্ডিং করা। বিশেষ করে বাজারে যেসব ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া।’

2015_11_08_15_26_04_O72A58vKVKVPq9hfi5SKwFVsHVKVIf_original

অ্যামাজন অথবা ই-বে’র মতই অনলাইনে কেনাকাটার জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলো দেশের উদ্যোক্তারা তৈরি করুক। আশা রাখেন তরুণ এই অনলাইন উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, ‘বিদেশী কোম্পানি এ দেশকে যতোটা দেবে, তার চেয়ে বেশি নেবে। আমাদের দেশেই যদি হয় বাইরের কোম্পানির সমমানের কোন প্রতিষ্ঠান, তবে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করবো।’

‘সবসময় গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় অফার নিয়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে ব্যাগ প্যাকার্স নিচ্ছে নিত্য নতুন পদক্ষেপ।’

‘বার বার না করে পোক, একবার বরং দেখা হোক’ ফেসবুকের পোকের চেয়ে সামনা সামনি দেখা করাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে আমি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রাখতেই পছন্দ করি। আর ব্যবসার জন্য থাকুক ই-কমার্স।’

অনলাইন ব্যবসা এক সময় শপিং করার মতো জনপ্রিয় হবে এমনটাই ভাবেন রিয়াজ আহমেদ বাবু।

নিত্যনতুন ডিজাইন আর হালফ্যাশনের ব্যাগ কিনতে ভিজিট করুন: www.bagpackersbd.com.

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪২ ঘণ্টা, ০৮ নভেম্বর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password