যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক :

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা ভালো হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর—নয় মাসে এই বাজারে ৪১৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

গত বছর একই সময়ে রপ্তানি হয় ৩৭৮ কোটি ডলারের পোশাক। তার মানে, এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। এটিই এ বছর বাজারটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি।

পরিমাণের দিক থেকেও এই বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। বছরের প্রথম নয় মাসে ১৪৩ কোটি বর্গমিটার সমপরিমাণ পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয় ১২৬ কোটি বর্গমিটার। অর্থাৎ, এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। পরিমাণ ও অর্থ—দুই হিসাবেই গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির হিস্যা ৬ শতাংশের ওপরে।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে ২ হাজার ৭৪ কোটি বর্গমিটার সমপরিমাণ ৬ হাজার ৪৮৮ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৯৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। গত বছর সেটি ২ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৪৮৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির এই ধারা থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতিবাচক ধারায় ফেরে বাংলাদেশ। মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। জুনে এসে সেটি সাড়ে ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। দুই মাস পর সেটি আবার সাড়ে ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল শনিবার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। কারণ উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্সের কারখানা পরিদর্শনে ইতিবাচক ফলাফল এসেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। পরিদর্শনের আগে ক্রেতারা মনে করেছিলেন, বাংলাদেশের সব কারখানাই হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ।’

এদিকে পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থানটি বরাবরের মতো চীনের দখলেই আছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি ২ হাজার ৩২৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে পৌনে ৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক রপ্তানির ৩৬ শতাংশই চীনের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে ভিয়েতনাম, রপ্তানি করেছে ৮০৪ কোটি ডলারের পোশাক। তাদের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশ এবং বাজার হিস্যা প্রায় ১২ শতাংশ। তৃতীয় বাংলাদেশ।

চতুর্থ ইন্দোনেশিয়া, রপ্তানির পরিমাণ ৩৭৬, প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৬৯ শতাংশ। পঞ্চম ভারত, রপ্তানির পরিমাণ ২৮৭ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মোট পোশাক রপ্তানির ২০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি ভিয়েতনামসহ ১১ দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্য প্রতিযোগী দেশ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে। তাতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমে যেতে পারে এমন শঙ্কা করছেন পোশাকমালিকেরা।

এ বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে তাঁর বাসায় এক বৈঠকে বলেছেন, টিপিপি চুক্তি বাস্তবায়ন হতে দেড় বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। তা ছাড়া চুক্তির রুলস অব অরিজিন অনুযায়ী শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়াটা সহজ হবে না।’

টিপিপি কার্যকরের আগেই বিজিএমইএ বাংলাদেশের রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে কৌশল নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩৫ঘণ্টা, ০৮ নভেম্বর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password