মির্জা ফখরুলের জামিন নাকচ, কারাগারে প্রেরণ

নিউজ ডেস্ক :

রাজধানীর পল্টন থানায় করা নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গতকাল মঙ্গলবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন তা নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর আইনজীবীরা মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা-সুবিধা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত কারাবিধি অনুযায়ী তাঁকে চিকিৎসা-সুবিধা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর মির্জা ফখরুলকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলামের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামকে অসুস্থ বিবেচনায় সর্বোচ্চ আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। তিনি বিদেশে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন। গত সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে ফখরুলের জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের শুনানি হয়। আদালত তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়াননি। আপিল বিভাগ তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তিনি এখনো অসুস্থ, এ মাসেই আবার চিকিৎসার জন্য তাঁর দেশের বাইরে যাওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না। আদালত স্বাধীনভাবেই আইন অনুযায়ী মির্জা ফখরুলের জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আর অসুস্থতার বিষয়ে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুলের আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৭৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়েছে। তাঁরা উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন জানাবেন।
গত ১৩ জুলাই শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মির্জা ফখরুলকে দেওয়া হাইকোটের্র জামিন ছয় সপ্তাহের জন্য বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পরে দুই দফায় তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

চলতি বছরের শুরুতে ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে। ৬ জানুয়ারি মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে নাশকতার অভিযোগে পল্টন ও মতিঝিল থানার সাতটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর মধ্যে পল্টন থানার মামলা ছয়টি ও মতিঝিল থানার একটি। সব মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন। ১৪ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। চিকিৎসা শেষে ২২ অক্টোবর তিনি দেশে ফেরেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৫ ঘণ্টা, ০৪ নভেম্বর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password