৩ কিলোমিটার দৌড়ে গেলেন ম্যারাডোনা!

স্পোর্টস ডেস্ক :

গোইয়ো—ডিয়েগো ম্যারাডোনার শৈশবের বন্ধু। দুজনের বন্ধুত্বের গল্পটাও বেশ মজার। ম্যারাডোনার বাড়ির কাছেই ছিল ছোট ছোট সাতটি মাঠ। মাঠগুলোর কোনোটায় গোলপোস্ট ছিল, কোনোটার আবার ছিল না। শক্ত মাটিতে যখন খেলা শুরু হতো ধুলোয় ভরে যেত গোটা মাঠ। ম্যারাডোনার কাছে মনে হতো খেলছেন ‘কুয়াশার মধ্যে খেলছেন ওয়েম্বলি’তে!

ছোট মাঠগুলো ছিল স্থানীয় ‘লাল তারকা’ ও ‘তিন পতাকা’—এ দুটি দলের দখলে। লাল তারকা দলটি মূলত ম্যারাডোনার বাবার। আর তিন পতাকা গোইয়োর বাবার। দুই দলের লড়াই ছিল বোকা জুনিয়র্স বনাম রিভার প্লেটের মতোই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ! বাবাদের এমন দল গঠনের পেছনে কিছু কারণ ছিল। ছেলেদের ফুটবল খেলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া তো বটেই, কখনোবা ফুটবল থেকে টাকা রোজগাড়ও ছিল উদ্দেশ্য। লাল তারকা-তিন পতাকার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ম্যারাডোনা-গোইয়ার মধ্যে সম্পর্ক ছিল অন্যরকম।

১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি সময়। একদিন বন্ধু গোইয়া দৌঁড়ে খবর নিয়ে এলেন ম্যারাডোনার কাছে, ‘ডিয়েগো, ডিয়েগো, শনিবার আমি গিয়েছিলাম আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স অনুশীলন করতে। তারা বলেছে ট্রায়ালের জন্য আরও ছেলে নিয়ে যেতে। তুমি কি যেতে চাও?’
সাড়ে নয় বছরের ম্যারডোনা পড়ে গেলেন বিরাট চিন্তায়! বললেন, ‘জানি না। বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। ঠিক জানি না…’

অতঃপর অনুমতি মিলল। খুশিতে এক দৌড়ে চলে গেলেন গোইয়াদের বাড়িতে। দৌড়টা কেমন ছিল, শুনুন ম্যারাডোনার মুখেই, ‘বেন জনসনের (অলিম্পিকে সোনাজয়ী জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত স্প্রিন্টার) চেয়ে দ্রুত গতিতে দৌড়ে গিয়েছিলাম গোইয়ার বাড়িতে। ওদের বাড়িটা ছিল ৩ কিলোমিটার দূরে। গিয়েছিলাম সাত মাঠ পেরিয়ে। এক নিঃশ্বাসে বলেছিলাম,‘আমি যাচ্ছি, তোমার সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে।”

91b858dffefaf5c81565ae9944fb9afe-Maradona-1

কদিন বাদে বাবার সঙ্গে ম্যারাডোনা রওনা হলেন। সঙ্গে গোইয়া ও আরেক বন্ধু মোনতানিতা। সুযোগ পেলেন বুয়েনস এইরেসের ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে খুদে ফুটবলারদের দল লস সেবোলিতাস বা ‘পেঁয়াজ’-এ। তবে সুযোগ পাওয়ার আগে ঘটল আরেক ঘটনা।

 

ট্রায়ালে ম্যারাডোনার নাটমেগ, ব্যাক-হিল ফ্লিকস, চিপে মুগ্ধ সেবোলিতাসের কোচ ফ্রান্সিস কোর্নেয়ো গোইয়াকে বললেন, ‘তোমার বন্ধুকে নিয়মিত আসতে বলো।’ তবে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি ম্যারাডোনার বয়স ৯।

মুখটা কঠিন করে জানতে চাইলেন, ‘তুমি কি নিশ্চিত ১৯৬০ সালে তোমার জন্ম?’ আসলে ফ্রান্সিসের দায়িত্ব ছিল ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া ছেলেদের অনুশীলন করানো। বয়স ১৪ হওয়ার আগে তাদের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের জন্য তৈরি করা।

ম্যারডোনার শুরুর দিনগুলো।ম্যারাডোনা জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, ডন ফ্রান্সিস…’
‘তোমার পরিচয়পত্র দেখাও।’
‘কাছে নেই। বাড়িতে ফেলে এসেছি…।’
অবিশ্বাসের চোখে ম্যারডোনার দিকে তাকিয়ে রইলেন ফ্রান্সিস। অনেক পরে ম্যারাডোনার বাবার সঙ্গে যখন তাঁর বন্ধুত্ব হয়, স্বীকার করেছিলেন প্রথমে ভেবেছিলেন ম্যারডোনা ‘বামন’!

বাংলাদেশ সময়: ১০১০ ঘণ্টা, ০১ নভেম্বর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password