একগুচ্ছ কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক :

লেখক : কামরুল হাসান

তমস

এ রাত্রির পক্ষে কেউ নেই, কেবল কবি
শিল্পীও নিলেন ফিরিয়ে তাঁর বর্ণসতৃষ্ণ তুলি,
মানুষ নিমগ্ন ইঁদুরের গর্ত-খোঁজা সুখে
নিরানন্দ সৃষ্টির শ্রমে ক্লান্ত একাকী ঈশ্বর!

কালোর বাগানে শুধু অক্ষরীয় ফুল
যেখানে তরল কালো সেখানে ঘন করে আনে
নিবিড় ঊরুর চাপে সুখস্ফূর্তি মুখের নিরিখে
পৃথিবীর কোল জুড়ে আঁড়াল আর রহস্যপ্রতীতি!

একটি পর্দাজুড়ে সমুদ্রের মৃদুজ্বলা ফোঁপানো নিঃশ্বাস
আরেকটি মহাকাশের দিকে খুলে যায়
ঐখানে আছেন ঈশ্বর? কেউ সঠিক জানেনা,
তমসায় অজ্ঞ আর বিজ্ঞের সমান মূরতি!

কালপ্রাতে কাকলীময় স্টেশনে আমাদের নতুন ঈশ্বর!

শব্দের বিবিধ মীমাংসা

শব্দের বিবিধ মীমাংসা শেষে ঘরে ফিরে আসেন কবি
নিজের ভেতরে এসে নগ্ন হন, মগ্ন তাঁর শরীরও
জ্যা-টান ধনুকের মত বেঁকে গিয়ে কার্পাসের
নৌকা ভাসিয়েছে, যেন তীর, গ্রহানুপুঞ্জের দিকে ভেসে যায়
অশিষ্ট সমস্ত দিন সৃষ্টিশীল প্রেতময় ঠোঁটে!

সর্বত্র হাসিস্তর খুলে পড়ে, অতিকায় তারকাও
কক্ষ থেকে সরে গিয়ে বিভ্রান্ত রয়েছে,
দানবীয় ঊরু নিয়ে পৃথুলা যেমন, রূপস্রোত
ঠেলে ঠেলে নাভিশ্বাস, নাভির বাগানে শ্বাস টানে!

কোলাহল তবু কিছু চলে আসে কার্পাসের ঘরে
যুবতী সকল দিন মুখ রাখে কবির কপাটে!

রোগাক্রান্তের আর্তি

বুঝিনা কোন পাড়ে আছি, দুর্লভ শুশ্রুষা নিয়ে
ঝুঁকে আছে মানবী না দেবী,
দেখি আশ্চর্য আলো ভরা চারিপাশে প্রণমিত ফুল
পৃথিবী কি অন্য কোন গ্রহানুগ্রহণ,
আলোর প্রবেশ আজ বুঝিনা শরীরে
শুধু এক অদ্ভুত জ্বরে পুড়ে যাই…

বুঝিনা জীবনের এই পাড়ে কেন এত ব্যগ্র আয়োজন,
মানুষ নাকি অন্য কোন প্রত্নজীব সৌধ গড়েছে?
ঈশ্বরকে দেখাতে চায় মৌন নির্বাসন
শনির কার্ণিশ ভেঙ্গে বৃহস্পতির বিপুলা কোমরে
অন্য এক পৃথিবীর মুগ্ধরেণু লাগে…

চলে গেছি, তবু কেউ নুইয়ে তার বুকের বাগান
অনুমিত ছায়াপথে হাতছানি দিয়ে ডাকে
ছায়ার ফোয়ারা আজ বুঝিনা শরীরে
শুধু এক অদ্ভুত জ্বরে পুড়ে যাই
পৃথিবী কি অন্য কোন গ্রহানুগ্রহণ..
সৌজন্য : কালের কন্ঠ

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫১ ঘণ্টা, ২৭ অক্টোবর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password