সংসদ নিয়ে কিঞ্চিতমাত্র পর্যবেক্ষণ টিআইবি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বর্তমান জাতীয় সংসদ নিয়ে ‘টিআইবি’ যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা ‘কিঞ্চিতমাত্র’ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, যখনই টিআইবি সরকারের সমালোচনা করে তখনই তাদের আয়ের উৎসের তদন্ত দাবি করা হয়।

অথচ যারা টিআইবি’র আয়ের উৎসের তদন্ত চান তারা কেনো স্বচ্ছতার স্বার্থে কিভাবে, কি পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তা জনগণকে অবহিত করেন না, এমন প্রশ্ন দলটির।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু আমরাই দাবি করিনি যে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মিত্ররাও এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টার দায়িত্ব নিয়েই সে কথা পূণর্ব্যক্ত করেছে।

আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজনের বিষয়টিকে প্রায় একুশ মাসেরও বেশি সময় ধরে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘টিআইবি’র ভাষায় জাতীয় সংসদ- ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’য় পরিণত হওয়ায় এবং এখানে কোনো প্রকৃত বিরোধী দল না থাকায় টিআইবি’র কঠোর সমালোচনা করেছেন শাসকদলীয় নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ এবং দশম সংসদের চীফ হুইপ।

কিন্তু তারা টিআইবি’র পর্যবেক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি এবং বলতেও পারেননি যে, টিআইবি অসত্য পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বরং টিআইবি এ সংসদ নিয়ে সত্য উন্মোচন করায় তাদেরকে বিরোধী দলের এজেন্ট পর্যন্ত বলে অসৌজন্য মন্তব্য করেছেন। আমরা এর নিন্দা করি।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, সরকার গণতন্ত্রের জন্য ঘনীভূত সংকট মোকাবিলা না করে বরং সবকিছুতেই বিরোধী দল ও সরকারের নীতি ও কর্মসূচির বিরোধিতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ষড়যন্ত্রকারী বলে গালাগাল করছেন।

সব কিছুতে ষড়যন্ত্র না খুজে সরকারের উচিৎ হবে দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণ এর পথ বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সবার মধ্যে ঐক্যমত সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা আরো মনে করি বর্তমান দশম জাতীয় সংসদে যে প্রক্রিয়ায় একটি ফেক বিরোধী দল সৃষ্টি করা হয়েছে তা সংসদীয় রাজনীতির জন্য একটি বাজে নজির হয়ে থাকবে। এই ভূয়া বিরোধী দল রেখে বর্তমান জাতীয় সংসদকে পাঁচ বছর পর্যন্ত টেনে নেয়ার সংকল্প আদৌ বুদ্ধিমানের কাজ বলে গণ্য হবে না।

সাবেক এই ছাত্রদল সভাপতি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি না মানায় আমাদের দল ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করা সত্বেও এবং পার্লামেন্টে আমাদের দলের উপস্থিতি না থাকলেও শাসকদল ও তার মিত্ররা আমাদের সমালোচনা করেছেন যা ছিল অনভিপ্রেত ও অসংসদীয় আচরণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অসংখ্য এমপি লিটন, আব্দুর রহমান বদিদের জন্মের পাশাপাশি ফ্রাঙ্কেনষ্টাইনের দানবরাও ক্রমেই শক্তিমান হয়ে উঠছে-যা সমাজ-রাজনীতির জন্য বড়ই অশনিসংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য- বিতর্কিত নির্বাচনে গঠিত এই পার্লামেন্ট অনতিবিলম্বে ভেঙ্গে দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিৎ সরকারের।

বিবৃতে তিনি হয়রানির উদ্দেশ্যে দেয়া সকল মামলা প্রত্যাহার করে বিরোধী দলের বন্দী নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানান।

বাংলাদশে সময়: ১৮৪০ ঘণ্টা, ২৭ অক্টােবর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password