এবার যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার ভ্রমণ সতর্কতা জারি

প্রবাস ডেস্ক :

বাংলাদেশে বসবাসরত এবং বিভিন্ন কারণে ভ্রমণরত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ঢাকা দূতাবাস। দুর্বৃত্তের গুলিতে দুই বিদেশি নাগরিক খুন এবং আশুরায় শিয়াদের তাজিয়া সমাবেশে হামলার পর থেকে এ নিয়ে চারটি রাষ্ট্র বাংলাদেশে এই সতর্ককতা জারি করল।

এর আগে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ঢাকা দূতাবাস থেকে বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। ঢাকায় গত ২৩ অক্টোবর আশুরার দিনে শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে গ্রেনেড হামলার পর যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের সতর্কবার্তা হালনাগাদ করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা তাদের দেশের কোনো নাগরিককে বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে নিষেধ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভ্রমণ বার্তায় বলেছে, মার্কিন নাগরিক ও তাদের পরিবারগুলোকে মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশাসহ পায়ে হেঁটে চলাচল পরিহার করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ আন্তর্জাতিক হোটেলগুলোতে কোনো জমায়েতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কানাডার সতর্কতা বার্তায় বাংলাদেশ ভ্রমণে এখন উচ্চমাত্রায় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পশ্চিমাদের ওপর হামলার আশঙ্কায় নয়, সতর্কতা বার্তাটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে হালনাগাদ করা হয়েছে। সতর্কতা বার্তাটি দেশজুড়ে ভ্রমণের জন্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা বার্তা হালনাগাদ করেছে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া।

যুক্তরাজ্য তাদের সতর্কতা বার্তাটি হালনাগাদ করেছে গত শনিবার। তাতে বলা হয়েছে, শিয়া সম্প্রদায়ের সমাবেশে বোমা হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সতর্কতা হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিকদের জনসমাগমে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমাদের ওপর হামলার আশঙ্কাও এখনো রয়েছে।

একই দিন অস্ট্রেলিয়া তাদের হালনাগাদ সতর্কতা বার্তায় বাংলাদেশ ভ্রমণে সে দেশের নাগরিকদের উচ্চমাত্রায় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পুরান ঢাকায় শিয়া সমাবেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি বেশ কয়েকটি বোমা ছোড়া হয়েছে; যাতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, হোসনি দালান চত্বরে হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবার ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়িদু। রবিবার ঢাকায় ইইউ দূতাবাসের পাঠানো এক বিবৃতিতে মায়িদু বলেন, বাংলাদেশ এ ধরনের নজিরবিহীন সহিংসতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ঐক্য প্রদর্শন করবে বলে তার বিশ্বাস।

এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার ও ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন রবার্ট গিবসন শনিবার এক টুইট বার্তায় বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান।

টুইটে তিনি বলেন, শিয়াদের আশুরার মিছিলে আক্রমণটি ছিল ভয়ঙ্কর। এ ধরনের সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা কাম্য হতে পারে না। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট টুইটার ও ফেসবুক বার্তায় বলেন, হোসনি দালান চত্বরে মিছিলে কাণ্ডজ্ঞানহীন হামলায় আমি মর্মাহত। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের। এ সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের পাশে আমরা আছি বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ইতালির নাগরিক সিজার তাভেল্লা এবং ৩ অক্টোবর জাপানের নাগরিক কুনিও হোশি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ ভ্রমণে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয় পশ্চিমা দেশগুলো।

বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, ২৬ অক্টোবর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password