সেঞ্চুরির পর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস কোহলির

স্পোর্টস ডেস্ক :

সেঞ্চুরির পর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। তবে পরশু বিরাট কোহলির উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো। বাহুর পেশি দেখালেন। সেটা কার উদ্দেশে, তা অবশ্য বোঝা গেল না।

২২ গজে কোহলির ‘শক্তি’ নিয়ে অবশ্য প্রশ্নের অবকাশ সামান্যই। মাঝে কিছুটা বাজে সময় হয়তো গেছে, সেটা কোহলি বলেই চোখে পড়েছে বেশি। না হলে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে কোহলি বেশ ধারাবাহিকই। পরশু ক্রিকইনফোর টুইট, ‘২৩তম সেঞ্চুরি, সামনে মাত্র আর চারজন, অথচ বয়স মাত্র ২৬।’

প্রচ্ছন্ন একটা প্রশ্ন থাকল তাতে-কোথায় গিয়ে থামবেন কোহলি? ক্রিকেটে সব ব্যাটসম্যানের জন্য এখন এভারেস্টটির নাম শচীন টেন্ডুলকার। অন্তত রেকর্ড বিচারে সেই শৃঙ্গ কি ছুঁতে পারবেন কোহলি? নাকি নিজেকে নিয়ে যাবেন আরও উচ্চতায়? নাকি, পারবেন না কিছুতেই?

সময়ের মুঠোয় যে প্রশ্নে উত্তর লুকানো, সেটা কেইবা জানতে পারে। তবে কোহলি এখন যে গতিতে ছুটছেন, সেই ধারা ধরে রাখতে পারলে অন্তত রঙিন পোশাকে টেন্ডুলকারকে ছোঁয়ার তাঁর দারুণ সম্ভাবনা আছে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নিজের ১৬৫তম ওয়ানডেতে ২৩তম সেঞ্চুরির পর সে সম্ভাবনার পালে লাগল জোর হাওয়া।

পরশু সৌরভ গাঙ্গুলীকে টপকে ভারতের পক্ষে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকও হয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই তাঁর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে যে চারজনের, তাঁদের কেউই ১৬৫ ওয়ানডেতে এসে কোহলির মতো রান, সেঞ্চুরি কিংবা গড়ের মালিক ছিলেন না।

৪৬৩ ওয়ানডেতে ৪৯ সেঞ্চুরিতে ১৮ হাজার ৪২৬ রানের মালিক টেন্ডুলকারের ধারেকাছে কেউ নেই। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রিকি পন্টিং ঢের পিছিয়ে। ৩৭৫ ম্যাচে ৩০ সেঞ্চুরিতে সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের রান ১৩ হাজার ৭০৪। কিন্তু যদি ক্যারিয়ারের প্রথম ১৬৫ ম্যাচের হিসাব করা হয়, টেন্ডুলকার কিংবা পন্টিং—সবাই স্পষ্ট ব্যবধানে পিছিয়ে কোহলির চেয়ে!

প্রথম ১৬৫ ম্যাচে টেন্ডুলকারের রান ছিল ৬৮২৪, সেঞ্চুরি ১২টি। ভারতীয় কিংবদন্তির বয়স তখন ২৪। অবশ্য টেন্ডুলকারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেতেই লেগে গিয়েছিল ৭৯ ম্যাচ। পরের ৮৬ ম্যাচে পেয়েছিলেন ১১ সেঞ্চুরি। সেখানে কোহলি নিজের প্রথম ৭৯ ম্যাচে পেয়েছেন ৮ সেঞ্চুরি, পরের ৮৬ ম্যাচে ১৫টি। পুরো ক্যারিয়ারে টেন্ডুলকারের গড় যেখানে ৪৪.৮৩; প্রথম ১৬৫ ম্যাচে ৩৮.৭৭।

অন্যদিকে, পন্টিংয়ের প্রথম ১৬৫টি ওয়ানডেতে রান ৫৮৩৫, গড় ৪১.৩৮। দুবার বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের সেঞ্চুরি তখন ১২টি। ১৬৫তম ওয়ানডে খেলার সময় পন্টিংয়ের বয়স ছিল ২৯। সনাৎ জয়াসুরিয়া ছিলেন আরও পিছিয়ে। প্রথম ১৬৫ ম্যাচে ‘মাতারা হারিকেন’-এর রান ৪৩৫৯, সেঞ্চুরি ৭টি। আরেক লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা নিজেকে অন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করলেও শুরুটা অত ঝলমলে ছিল না। নিজের প্রথম ১৬৫ ওয়ানডেতে সাঙ্গাকারার রান ৪৭২৪। সেঞ্চুরি মাত্র ৫টি।

ওয়ানডেতে প্রতি ৯ ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন টেন্ডুলকার। এখানেও এগিয়ে কোহলি, তিনি পেয়েছেন প্রতি ৭ ম্যাচে। টেন্ডুলকার অবসর নিয়েছেন ৪০ বছর বয়সে। কোহলির বয়স এখন ২৬। যদি ভারতের টেস্ট অধিনায়ক খেলে যেতে পারেন আরও ১৪ বছর, টেন্ডুলকারের কীর্তি ভাঙা কঠিন কিছু?

প্রশ্নটা শুধু পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করছে না বলেই সংশয় থাকছে। একজন ব্যাটসম্যানের পারফর্ম নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর। ফিটনেস, ফর্মও রাখতে হবে মাথায়। শুধু ব্যাটে ধারাবাহিকতা নয়, কোহলিকে ধরে রাখতে হবে ফিটনেসও। এড়াতে হবে বড় ধরনের চোট।

সেঞ্চুরি সংখ্যায় কোহলির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন দুই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। ১৯৪ ম্যাচে এবির
সেঞ্চুরি ২২টি, অন্যদিকে ১২৫ ম্যাচে আমলার ২১টি।

তবে ভবিষ্যতের টেন্ডুলকার নামের এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার লড়াইটায় কোহলি সুবিধা পাচ্ছেন বয়সের দিক দিয়ে। ডি ভিলিয়ার্স ৩১ পেরিয়েছেন, ৩২ পেরিয়েছেন আমলা। দেখা যাক…।

১৬৫তম ওয়ানডেতে কে কোথায়

ব্যাটসম্যান     বয়স       রান        গড়         সেঞ্চুরি

বিরাট কোহলি  ২৬       ৬৮২৪    ৫০. ৯২     ২৩

শচীন টেন্ডুলকার ২৪    ৫৬২৩    ৩৮.৭৭       ১২

রিকি পন্টিং        ২৯    ৫৮৩৫      ৪১.৩৮      ১২

সনাৎ জয়াসুরিয়া ২৯    ৪৩৫৯      ২৮.৮৬     ৭

কুমার সাঙ্গাকারা  ২৯    ৪৭২৪         ৩৫.৫১     ৫

বাংলাদেশ সময়: ১০৩৭ ঘণ্টা, ২৪ অক্টোবর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password