বরগুনার বিভিন্ন পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

সারাবাংলা ডেস্ক :

বরগুনার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পথে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বরিশাল কার্যালয় ও ভুক্তভোগী যাত্রী সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। ওই গেজেটে আন্তজেলা বাসভাড়া অপরিবর্তিত রাখা হয়। সে অনুযায়ী আন্তজেলার বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু বরগুনায় দীর্ঘদিন ধরেই সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুসরণ না করে স্থানীয় বাসমালিকেরা খেয়ালখুশিমতো দেড় থেকে দুই গুণ ভাড়া আদায় করছেন।

ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী আরও বলেন, বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কে ২৩ কিলোমিটার দূরত্বে সরকার-নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ভাড়া হওয়ার কথা ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৫৫ টাকা।

একইভাবে বরগুনা-বেতাগী পথে ৩৭ কিলোমিটারে ভাড়া ৫৯ টাকা ২০ পয়সা; সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৭০ টাকা। বরগুনা-নিয়ামতি পথে ৪৪ কিলোমিটারের ভাড়া ৭০ টাকা ৪০ পয়সার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ৯০ টাকা। বরগুনা-চান্দখালী পথে ১৫ কিলোমিটারের ভাড়া ২৪ টাকা; অথচ নেওয়া হচ্ছে ৩৫ টাকা।

বরগুনা-নিয়ামতি পথে চলাচলকারী বাসযাত্রী সাইদুর রহমান বলেন, আগে যেখানে ভাড়া নিত ৭৫ টাকা, সেখানে হঠাৎ করে ৯০ টাকা নিচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো বাসশ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়। এ জন্য কেউ এসবের প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

বরগুনা-নিশানবাড়িয়া পথের বাসযাত্রী হুমায়ুন কবির খান বলেন, বাসমালিক ও শ্রমিকদের দাপট দেখে মনে হয়, এখানে তাঁদের এসব অন্যায় তদারক করার কেউ নেই। ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়লেও যাত্রীসেবা মোটেই বাড়েনি। বেশির ভাগ বাসের ফিটনেস নেই। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট কাটলেও দাঁড়িয়ে যেতে হয়।

আসন চাইলে শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়। বিআরটিএ বরগুনা-পটুয়াখালীর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় কি না, মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি আমাদের দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সগির হোসেন বলেন, ‘আমরা বরগুনা-নিয়ামতি ছাড়া অন্য পথে ভাড়া বৃদ্ধি করিনি। সরকার-নির্ধারিত ভাড়ায় গাড়ি চালালে লোকসানে পড়তে হবে। রাস্তার ট্যাক্স, শ্রমিকের বেতন, বর্ধিত তেলের দাম মিলিয়ে এই ভাড়া না নিলে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত বাসভাড়া নেওয়ার বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে বিআরটিএ ও বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৪ ঘণ্টা, ২২ অক্টোবর,২০১৫

 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password