শিশুর বেড়ে উঠায় আপনি কতটুকু সচেতন ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

প্রতিটি দম্পতির মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু তাদের সন্তান। শিশুটির প্রতি তাদের যত্নও থাকে যথেষ্ট। তারপরও সবার ব্যস্ততা ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে জানার কমতির জন্য শিশুর পুষ্টির ব্যাপারটি যথাযথ হয় না। সব বাবা-মার উচিৎ তার শিশুর পুষ্টির ওপর সঠিকভাবে নজর রাখা। যাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে শিশুটি গড়ে উঠতে পারে।

তাই প্রয়োজন শিশুর খাবারের সঠিক খাদ্য তালিকা। শিশুর খাবারকে মোটামুটি ৩ ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমত_ শর্করা ও চর্বি, দ্বিতীয়ত_ আমিষ, তৃতীয়ত_ ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্যসমূহ যেমন চাল, ডাল, গম ইত্যাদি।

শিশুর সঠিক গঠন ও পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য প্রতিটি শিশুকে জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শক্ত খাবার দিতে হবে। প্রথম ৫ মাস মাতৃদুগ্ধই যথেষ্ট।

কিন্তু ৬ মাসের খাবারের মধ্যে প্রচুর ক্যালরিযুক্ত খাবার থাকতে হবে। শিশুর বয়স এক বছর হলে তাকে দিতে হবে স্বাভাবিক খাবার। শতকরা ৯০ জন মা ডাক্তারের কাছে অভিযোগ করেন, আমার বাচ্চা কিছুই খেতে চায় না বা খাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে প্রত্যেক বাবা-মাকে বুঝতে হবে, শিশুর জিভের ‘টেস্ট বাড’ বড়দের মতোই পরিপূর্ণ। তাকে প্রতিদিন একঘেয়ে খাবার দিলে সে খেতে চাবে না।

যদি দুধের সঙ্গে শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়াতে চান তবে প্রথম দিন চালের পায়েস, পরের দিন সেমাইয়ের পায়েস, আর একদিন সয়াবিন বা অন্যদিন কালিয়া দিয়ে, এভাবে স্বাদ পাল্টে খাওয়াতে হবে। সারাদিন বাচ্চাকে অন্তত ছ’বার খাওয়াতে হবে।

সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার ছাড়াও সকালে ও বিকেলে অল্প পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য টিফিনের খাবারটা একটু ভারি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বাচ্চার না খাওয়ার ব্যাপারে একটি কথা বলে রাখা দরকার, বাচ্চা খেতে না চাইলে তার মুখের ভেতর কোন ঘা আছে কি না তা খুঁজে দেখতে হবে। অথবা সর্দিতে নাক বন্ধ রয়েছে কি না।

আজকাল বাবা-মায়েরা সচেতন হতে গিয়ে একটু ভুল করে ফেলছেন। তার বাচ্চাটিকে তার বয়স ও উচ্চতার তুলনার বেশি ওজন অর্জন করে ফেলেছে এরই মধ্যেই তার খেয়াল করেন না অনেকেই। আমরা এমন অনেক শিশুকে পাই যার বর্তমান ওজন তার কাঙ্ক্ষিত ওজনের চেয়ে বেশি।

ভাঙা পরিবার, পারিবারিক অশানত্মি, বাবা-মার সম্পর্কের প্রতিক্রিয়া শিশুর বুদ্ধির ওপর প্রতিফলিত হয়। তাছাড়া মানসিক পীড়ন বর্তমান যান্ত্রিক যুগে বাচ্চার বাড়ার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অপুষ্টিই শিশুর বৃদ্ধির না হওয়ার প্রধান কারণ। আমাদের দেশের জন্য তো বটেই। আমাদের একটি কথা মনে রাখা দরকার, শিশুর পুষ্টি বেশিরভাগই নির্ভর করবে গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির ওপর। গর্ভাবস্থায় মা যদি অপুষ্টিতে ভোগেন, তবে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির স্থায়ী ক্ষতি সাধিত হবে অর্থাৎ পরে শিশুর পুষ্টির ব্যাপারে যতই নজর দেয়া হোক না কেন, তার খুব একটা উন্নতি হবে না। কেননা শিশুটির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হওয়ার মাপঝোক মায়ের পেটেই তৈরি হয়ে যায়।

পরিবারের সব সদস্যের সচেতন থাকা উচিৎ একটি শিশু বেড়ে উঠার জন্য। প্রতিটি পরিবার স্বাস্থ্যবান শিশুর এক একটি বাগান হয়ে উঠুক।

বাংলাদেশ সময়:১৫৩৭ ঘন্টা, ২০ অক্টোবর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password