বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না : অর্থমন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক :

বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পলিসি খুব একটা সুবিধাজনক পর্যায়ে নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়া এ দু’টি দেশের প্রতি মার্কিন নীতিতে বিরূপ মানোভাব পোষণ করা হয়। তবে এতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।

রোববার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের অধিবেশন, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের বার্ষিক সভায় যোগদান শেষে দেশে ফিরে তিনি এ প্রেস ব্রিফিং করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও রাশিয়া এ দু’টি দেশের প্রতি মার্কিন নীতিতে বিরূপ মানোভাব পোষণ করা হয়। গত ৬-৭ বছরে ধরে আমরা তা প্রমাণ করেছি। এটা তাদের নীতি, তাদের বিষয়; এটা নিয়ে বলার কিছু নেই।”

তিনি আরো বলেন, “আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে আমাদের লক্ষ্য ৭ শতাংশ জিডিপি অর্জন করা। ৬-৭ বছরে রাজনৈতক অস্থিরতা ও কোন্দল সত্ত্বেও আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাধা গ্রস্ত হয়নি। আমরা তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আর এ বিষয়টি আমরা জাতিসংঘে তুলে ধরেছি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় যে, বাংলাদেশ থেকে দুষ্ট রাজনীতি বিসর্জিত হয়েছে। কোনও ধরনের অস্থিরতা বা কোন্দল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে পারেনি।”

দেশে বিদেশি হত্যাকাণ্ড অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি দুই বিদেশি নাগরিকের হত্যা নিয়ে খুব বেশি হইচই করার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিদিন কতজন বিদেশি নাগরিক মারা যায় তার হিসাব কে রাখে।”

মুহিত আরও বলেন, জাতিসংঘে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রশংসিত হয়েছে। আমরা বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জনের বিস্তারিত তুলে ধরেছি, যা অন্যান্য দেশের কাছেও সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি মোকাবেলায় বাজেটে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জাতিসংঘে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা এখন এমডিজি অর্জন শেষে এসটিজি অর্জনের জন্য পরামর্শ ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করছি। এ বিষয়ে আমাদের তুলে ধরা ১৭টি পয়েন্টের মধ্যে ১১টি জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে। যা একটি বিশাল অর্জন।

নতুন ঘোষিত পে-স্কেল সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল এরইমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। আশা করা হচ্ছে আগামী নভেম্বর মাস থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, অর্থ বিভাগের সচিব মাহবুব আহমেদ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মিজবাহ উদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫২ ঘন্টা, ১৮ অক্টোবর,২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password