২০ বছর পর সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

১৯৯৮ সালে প্রথম আবির্ভাবেই সবাইকে চমকে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছিল ক্রোয়েশিয়া। এবার ২০ বছর পর তারা আবারও সেমিফাইনালে। চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া। তার মাঝে দুইবারই সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে দেশটির বয়সই তখন মাত্র ৭! কিন্তু দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সেই বিশ্বকাপের পর কেমন যেন মিইয়ে পড়ে ক্রোয়াট ফুটবল। পরে বিশ্বকাপে খেললেও আর কখনোই প্রথম পর্বের বাধা পার হতে পারেনি তারা। ২০ বছর পর আরও একটি ‘সোনালি প্রজন্ম’ ক্রোয়েশিয়াকে তুলেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

এবারের বিশ্বকাপে তাদের পথচলাটা কেমন ছিল, কীভাবে তারা শেষ চারে জায়গা করে নিল, সেটি একবার দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম ম্যাচেই নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জিতেছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে সে ম্যাচে তাদের ধার অতটা বোঝা যায়নি। যদিও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়টা ছিল স্বস্তিরই। লুকা মদরিচ পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন, অন্যটি ছিল নাইজেরিয়ার ওগেনেকারো এতেবোর আত্মঘাতী। দ্বিতীয় ম্যাচে মেসির আর্জেন্টিনাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা খেলে ক্রোয়েশিয়া। জয়ও আসে বড় ব্যবধানে—৩-০ গোলে। প্রথম গোলটি ছিল আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক উইলি কাবায়েরোর ভুল থেকে। তার দেওয়া ভুল পাস কাজে লাগাতে ভুল করেননি আন্তে রেবিচ। ডি–বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক শটে দলকে ২-০-তে এগিয়ে নেন অধিনায়ক মদরিচ। আর তৃতীয় গোলটি ছিল ইভান রাকিতিচের।
আইসল্যান্ডকে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা হারায় হেসেখেলেই। ৯ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামার সে ম্যাচে এক গোলে এগিয়ে গিয়েও যদি একটি গোল খেয়ে বসেছিল তারা। কিন্তু জয়টা শেষ পর্যন্ত তুলে নেয় তারা।
শেষ ষোলো আর কোয়ার্টার ফাইনাল ক্রোয়েশিয়া জিতেছে টাইব্রেকারে। শেষ ষোলোয় ডেনমার্কের বিপক্ষে ৫৭ সেকেন্ডে গোল খেয়ে গেলেও মারিও মানজুকিচের কল্যাণে সমতায় ফিরেছিল তারা। পরে আর গোল-টোল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় সে ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে মাদরিচের পেনাল্টি মিসে ‘অকল্যাণ ভাবনা’ ভাবা শুরু করেছিল ক্রোয়াট-ভক্তরা। কিন্তু গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচের বিশ্বস্ত হাত সেযাত্রায় বাঁচিয়ে দেয় রাকিতিচ-মদরিচদের।

রাশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচও দুর্দান্ত খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। দেনিস চেরিশেভের গোলে এগিয়ে যাওয়া রাশিয়াকে মাত্র ৮ মিনিট এগিয়ে থাকতে দিয়েছিলেন আন্দ্রেই ক্রামারিচ। অতিরিক্ত সময়ে দোমাইয়গ ভিদার গোলে এগিয়ে গেলেও রাশিয়া তা শোধ করে ফেলে দ্রুতই। এই ম্যাচের নায়ক সুবাসিচের কপাল ভালো। ৮৮ মিনিটেই হ্যামস্ট্রিংয়ে টান খেয়ে ম্যাচ থেকে বের হওয়ার জোগাড় হয়েছিল তাঁর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের সময় গোলবারে দাঁড়াতে পেরেছিলেন তিনি।

নিজেদের খেলাটা ঠিকমতো খেলতে পারলে ইংল্যান্ডের জন্য বড় আতঙ্কেরই কারণ হবেন তাঁরা। প্রথম বিশ্বকাপে হয়তো হয়নি, কিন্তু এবার যেন হয় সেটাই নিশ্চিত করতে ‘স্বর্ণ প্রজন্মে’র মদরিচ, মানজুকিচ, রাকিতিচ, সুবাসিচরা কিন্তু পুরোপুরি প্রস্তুতি। ১১ জুলাই মস্কোর লুঝিনিকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত বারোটায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password