প্রবাসী আয় বেড়েছে বিদায়ী অর্থবছরে

সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স আহরণ বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি রেমিট্যান্স ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭.৩ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্লেষকরা জানান, মোবাইলে হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়িসহ নানা উদ্যোগের কারণে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।

এই অঙ্ক বাংলাদেশের ইতিহাসে আসা এক অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৫.৩১ বিলিয়ন (এক হাজার ৫০০ কোটি) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে এসেছিল ১ হাজার ২৭৭ কোটি ডলার।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এবং ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে বাংলাদেশে অর্থনীতিতে। বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বিদেশি মুদ্রা। বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্সের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ৩০শে জুন শেষ হওয়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী এক কোটি প্রবাসী এক হাজার ৪৯৮ কোটি (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের চেয়ে ১৭.৩ শতাংশ বেশি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ২৭৭ কোটি (১২.৭৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড গড়ার পর তিন বছর ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স কম ছিল। তবে গত বছর জনশক্তি রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় রেমিট্যান্সেও তার প্রভাব পড়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। তিনি বলেছিলেন, রেমিট্যান্স ১৫ বিলিয়ন ডলার হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরও একই প্রত্যাশা করেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৩৮ কোটি ২০ লাখ ডলার এসেছে, যা গত বছরের জুন মাসের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ৩৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। রোজা এবং ঈদ উপলক্ষে অর্থবছরের শেষ দুই মাস মে ও জুনে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। মে মাসে এসেছিল ১৪৮ কোটি ১৮ ডলার।

দেশের রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখনো সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় পাঠান সৌদি আরব থেকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তৃতীয়। চতুর্থ মালয়েশিয়া ও পঞ্চম কুয়েত। এ ছাড়া ষষ্ঠ ওমান, সপ্তম যুক্তরাজ্য, অষ্টম কাতার, নবম ইতালি ও দশম স্থানে আছে বাহরাইন। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে প্রবাসী আয় আসা বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরে এসেছিল ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় বেশি এসেছে ৩০ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

রেমিট্যান্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও রয়েছে সন্তোষজনক অবস্থায়। সবশেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়ে ৩৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার এখন ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে এই দর ছিল ৮০ টাকা ৫৯ পয়সা। এ হিসাবে এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

ব্যাংকওয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, শুধু গত জুন মাসে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে। ১৩ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে সোনালী ব্যাংক দ্বিতীয়। জনতার মাধ্যমে ৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ২৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১০১ কোটি ৮৪ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password