‘গো অ্যান্ড প্লে’ মন্ত্র মাশরাফির

বিপিএলের পঞ্চম আসরে শুরুতে রংপুরের পারফরম্যান্স এতটাই টালমাটাল ছিল যে অনেকেরই বিশ্বাস ছিল না যে এ দলটি শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হবে। কিভাবে চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর! তাই চতুর্থবার বিপিএলের ট্রফি জয়ী অধিনায়কের সামনে প্রশ্নটি এলো বেশ বড় করেই।

তামিম ইকবাল মাশরাফি বিন মুর্তজাকে মাঝে মাঝে ডাকেন ‘দরবেশ বাবা’ বলে। কথাটি মজার ছলে হলেও তামিম নাকি বিশ্বাস করেই বলেন। কারণ মাশরাফি মাঝে মাঝে তামিমকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন যা সত্যিই হয়েছে। অনেকটা ভাগ্যে বিশ্বাস যাকে বলে! গতকাল রংপুর রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করে সেই ভাগ্যকেই বড় করে সামনে আনলেন দেশ সেরা অধিনায়ক মাশরাফি।

জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘আগেরবার তো সেমিফাইনালে উঠিনি। কোনো রহস্য নাই। লাক ফেবার না করলে কিছুই সম্ভব না। আমি আসলে ভাগ্যে বিশ্বাস করি। লাক ফেবার করছে তাই পারছি।’

তবে ভাগ্য যে মানুষই পরিবর্তন করতে পারে রংপুরের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেটিরই প্রমাণ। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে মাশরাফি শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও লড়াই করেছেন। এমনকি দুর্দান্ত ফিল্ডিং করেও দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। সবচেয়ে কম ইকোনমিতে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। যে কারণে ভাগ্যের সঙ্গে যে প্রচেষ্টাও লাগে সেটিও বলতে ভোলেননি তিনি।

মাশরাফি বলেন, ‘অবশ্যই প্রচেষ্টা বড়। শুধুমাত্র ভাগ্যের উপর বসে থাকলে চলবে না। আপনি চেষ্টা করলেন না কিন্তু লাকের উপর বসে থাকলে চলবে না। আপনাকে চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু দিন শেষে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে কিংবা যে কোনো ভালো কিছু করতে হলে লাক অবশ্যই ফেবার করতে হয়। আমি বিশ্বাস করি এটাই। আমরা সেমিফাইনাল থেকে অন্য রকম চেহারায় ছিলাম। এটা সত্যি কথা আমাদের ভেতরে ওই ক্ষুধাটা ছিল। আমরা মাঠে গিয়ে কিছু করতে চাই। আমাদের প্রত্যেকটা ম্যাচ শেষ ম্যাচ ছিল। ওই জিনিসটা সেমিফাইনালের আগে থেকেই ছিল।’

শুরুতে হোঁচট খাওয়া দলটি কিভাবে রাতারাতি বদলে গেল! বিশেষ করে প্লে অফে ওঠার পর তো তাদের সামনে কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। এখানে যেমন ভাগ্য ছিল তেমনি মাশরাফির মন্ত্রও ছিল। কী সেই মন্ত্র?

মাশরাফি বলেন, ‘লীগ পর্ব পার করে চতুর্থ দল হিসেবে যখন নিশ্চিত হলাম, আমাদের একটাই মেসেজ ছিল যে আমরা যে সুযোগটি পেয়েছি সেটা কাজে লাগাতে হবে। হয়তো বা আমাদের বাড়িও চলে যেতে হতে পারে। আর একটা জিনিস করি যে আমরা অলআউট ক্রিকেট খেলি, ফ্রিডম নিয়ে। যেটা করতে মন চায় সেটা যেন পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে করি। এমন না যে একটা বোলার ইয়র্কার করতে চাইছে, সেটা করতে পারছে না। তাকে বাধা দিতে চাইনি।

গেইল-ম্যাককালামকে বলা ছিল যেহেতু তোমরা শট খেলতে পছন্দ করো তাহলে সেটাই করো। গো এন্ড প্লে। আজকে যদিও দশ ওভার পর্যন্ত ওরা অনেক দেখে শুনে খেলেছে তারপরও সেট হওয়ার পর ওরা ওদের পরিকল্পনা মতো খেলেছে। ফ্রিডম নিয়ে খেলা যাবে বলে কোনো ব্লেমিং নেই। কেউ কাউকে দোষ দেইনি। এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

অধিনায়ক হিসেবে এমন প্রাপ্তির অনুভূতি কেমন ছিল মাশরাফির। আসলে মাশরাফি বলে কথা। তার নিজের আনন্দের কারণটাও যে অন্যদের আনন্দ ও প্রাপ্তির মাঝে।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password