এই উৎসব আনন্দের

বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বজ্রকণ্ঠে বলে উঠেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’ নির্মলেন্দু গুণের কাছে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ছিল বাংলার অমর কবিতা। ‘গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে’ সেই কবিতা শুনিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালিকে উদ্দীপ্ত করেছিলেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে।

ছয় ৪০ বছর চলে গেছে। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ইউনেসকোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু নেই। আছে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ, আছে সেই উদ্যান আর অগণন মানুষ।

আজ শনিবার হেমন্তের এই বিকেলে কবি নির্মলেন্দু গুণ পড়ে শোনালেন তাঁরই লেখা কবিতাটি, সেই উদ্যানে। বললেন, ‘ইউনেসকো আজ যখন বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন বাঙালি-বাংলাদেশের মানুষেরা আনন্দিত বোধ করছে। সেই হিসেবে আজকের এই উৎসব গৌরবের, এই উৎসব আনন্দের।’

এই আনন্দের উৎসবে আজ সকাল থেকেই শামিল হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। স্লোগানে-গানে-কবিতায় মুখরিত ছিল উদ্যান। নাগরিক কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

নাগরিক সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ লাখ লাখ মানুষের সামনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু । যে ভাষণ এ দেশের মানুষকে আন্দোলিত করেছিল। তাঁর ভাষণের মাধ্যমে একটি নতুন জাতির জন্ম হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য বুঝতে বাঙালিদের কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ভাষণ অনুবাদ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে পারি, যাতে যেসব দেশ শোষণ মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছে, তারা এই ভাষণ থেকে শক্তি অর্জন করে, অনুপ্রেরণা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু একান্ত আমাদের, কিন্তু তিনি বিশ্ববাসীর। তাঁর ভাষণের যে শক্তি, তা বিশ্ববাসীকে উদ্দীপ্ত করুক, এটাই কামনা করছি।’

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশি পাকিস্তানিরা’ এখনো সক্রিয়। আজও তারা এ দেশের স্বাধীনতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, আজও তারা বাংলাদেশিদের গোলামি করাতে চায়। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা বঙ্গবন্ধুর নামে শপথ নেই। কোনো দিন আমরা বঙ্গবন্ধুর শপথ বিস্মৃত হব না, বাংলাদেশি পাকিস্তানিদের ক্ষমতায় আনব না।’

 

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য শাখায় স্বীকৃতি দেওয়ায় ইউনেসকোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password