তাঁকে আমি দেখেছি বন্ধুর মতো, আপনজনের মতো

তিনি অজস্র স্বপ্নের কথা বলতেন। আমার তো মনে হয়, তাঁর যদি দশটা হাত থাকত, তিনি আরও অনেক কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন। তাঁকে আমি দেখেছি বন্ধুর মতো, আপনজনের মতো। আর তাঁকে দেখেছি একটা ঘূর্ণিঝড়ের মতো। তিনি ঘূর্ণিঝড়ের মতো তীব্র গতিতে ছুটে চলতেন এবং আশপাশের সবাইকে টেনে নিতেন তাঁর ভেতরে। এখনো তাঁর সেই স্বপ্ন, টেনে নেওয়া চলছে তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের ভেতর দিয়ে।’ চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম শিশু চলচ্চিত্র প্রেসিডেন্ট-এর পরিচালক ফজলুল হককে নিয়ে এভাবেই বললেন নাট্যজন আল মনসুর।

আজ বৃহস্পতিবার ফজলুল হকের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবছর এই দিনে তাঁকে স্মরণ করে দেওয়া হয় ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার। ২০০৪ সালে প্রবর্তিত এ পুরস্কার এবার পেলেন চলচ্চিত্র পরিচালনায় আবদুল লতিফ বাচ্চু ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় নরেশ ভুঁইয়া। ঢাকার গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র ও স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দ হাসান ইমাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ ও ফজলুল হকের মেয়ে কেকা ফেরদৌসী।

মৌসুমী বড়ুয়ার সঞ্চালনায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি একসময় রূপ নেয় স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে। ফজলুল হককে নিয়ে কথা বলেন আলী ইমাম, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, মামুনুর রশীদ, আজিজুর রহমান, নুরুল আলম বাবু, মোরশেদুল ইসলাম, আবু সায়ীদ, আল মনসুর, কোনাল, ফজলুল হকের পরিবারের সদস্য কণা রেজা, কেকা ফেরদৌসীসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেখানো হয় ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফজলুল হক পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সময়টা পঞ্চাশের দশক। তখনো চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়নি এ দেশে। ওই সময় মফস্বল শহর বগুড়া থেকে সিনেমা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন ফজলুল হক। পত্রিকাটি ছিল তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক মাসিক সাময়িকী। সেই সূত্রে এ দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ফজলুল হক। শহিদুল আলম সাচ্চু পরিচালিত ফজলুল হক স্মরণে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘সম্মুখযাত্রী ফজলুল হক’ দেখানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুরস্কারের ১৩তম আসর। অনুষ্ঠানে আহমাদ মাযহার সম্পাদিত ‘ফজলুল হক: অগ্রগামী স্বাপ্নিক’ শিরোনামে একটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

ফজলুল হককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাট্যজন ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘আমার যে বছর জন্ম সে বছরই সিনেমা পত্রিকাটা বের করেছিলেন ফজলুল হক সাহেব। এটা ভাবতেও অবাক লাগে, আজকে আমরা একটা সিনেমা-বিষয়ক পত্রিকা বের করার সাহস করি না। ষাটের দশকের কথা বলছি, তখন শুক্রবার পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হতো। তখনকার চার আনা দিয়ে আমরা তা সংগ্রহ করতাম। সে এক আনন্দ। যতটা না চলচ্চিত্র দেখার আনন্দ, তাঁর চেয়ে বেশি চলচ্চিত্রের মানুষগুলো সম্পর্কে জানার আনন্দ। এটা আজও অনেক বেশি স্মৃতিতে ভাস্বর। ফজলুল হকের মতো একজন মানুষ কীভাবে এত কর্ম করতেন, তা ভাবতে এখনো অবাকই লাগে।’

 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password