পার্বত্য জেলায় পাহাড়ধসে নিহত ২৫

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টির পর তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে অন্তত ২১ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রামেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পাহাড়ধসে চারজন নিহত হয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। গত দুই দিনের টানা বর্ষণে এ ঘটনাগুলো ঘটে।

বান্দরবানের পর টানা বর্ষণে রাঙামাটিতেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন রুমা আক্তার, নুরিয়া আক্তার, হাজেরা বেগম, সোনালি চাকমা, অমিত চাকমা, আইয়ুশ মল্লিক, লিটন মল্লিক এবং চুমকি দাশ। এ ছাড়া তিনজনের নাম তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি।

এই সময়ে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় মাটিচাপা পড়ে উনু চিং মারমা এবং নিকি মারমা মারমা নামের দুইজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাইখালি ইউপি চেয়ারম্যান ছায়ামং মারমা। কাপ্তাই উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় গাছের নিচে চাপা পড়ে আবুল হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং ইকবাল নামের এক ব্যক্তি কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।

রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার ওসি মুহম্মদ রশীদ জানিয়েছেন, এটা একটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে। অনেক স্থানেই এখনো মানুষ মাটিচাপা পড়ে আছে।

বান্দরবান মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি বিভাজিক কেন্দ্র জানায়, গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি এ পর্যন্ত জেলার সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় পুরো জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার গৃহহারা হয়েছে। বান্দরবান পৌর এলাকায় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় পাঁচ পরিবার ঠাঁই নিয়েছে। বান্দরবান পৌর এলাকার আর্মীপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বালাঘাটা ও কালাঘাটা পাঁচ ফুট পানির নিচে রয়েছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসে বন্ধ হয়ে গেছে বান্দরবান-রুমা সড়ক ও বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক। বান্দরবান-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের দুটি পয়েন্টে পানি উঠে গেছে। বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ছয়জনের প্রাণহানির কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হচ্ছে।

অনেক শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে লামা এবং আলীকদম উপজেলাতও। সোমবার দিবাগত রাতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে লামা পৌর শহর। আলীকদমের নিম্নাঞ্চলগুলো দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে রয়েছে।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password