‘মোরা’র জন্য চট্রগ্রাম বন্দরের পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার সব ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সন্ধ্যায় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবালের সভাপতিত্বে বন্দর ভবনে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন বন্দর চেয়ারম্যান।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, বন্দরে এখন সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেটি, যন্ত্রপাতি ও পণ্যের সুরক্ষার জন্য এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করার পর জাহাজ থেকে জেটিতে পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুরে জেটি থেকে পণ্যবাহী ২৪টি বড় জাহাজ সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করার পর বন্দরের নিজস্ব সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘অ্যালার্ট-৪’ জারি করা হয়। এই সতর্কতার অংশ হিসেবে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, বন্দরের বহির্নোঙরে এখন ৮৯টি পণ্যবাহী জাহাজসহ ১২৫টি জাহাজ রয়েছে। জাহাজ সাগরে পাঠিয়ে দেওয়ার পর মূল জেটি ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে দুটি জাহাজের ইঞ্জিনে সমস্যা থাকায় এ দুটি জাহাজ সাগরে পাঠানো যায়নি। এ দুটি জাহাজ পতেঙ্গা এলাকার দিকে বিশেষায়িত দুটি জেটিতে শক্ত করে বাঁধা হয়েছে। ছোট আকারের জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীর উজানে শাহ আমানত সেতুর কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রণীত ঘূর্ণিঝড়-দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত অনুযায়ী চার ধরনের সতর্কতা জারি করে বন্দর। মহাবিপদ সংকেত ৮,৯ ও ১০ হলে বন্দরেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘অ্যালার্ট-৪’ জারি করা হয়।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password