৩০ এতিম শিশুর আকাশ ভ্রমণ

৩০ এতিম শিশুর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে বিমানের সুপরিসর ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজে (বিজি-১৬০৩) সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁও-মিরপুর অঞ্চলের শিশু পরিবারের ৩০ এতিমকে।

বিমানের লোগো সম্বলিত টি- শার্ট পরা ছিল সবার গায়ে। এ পোশাকে তারা বিমানের পয়ূর পঙ্খী এয়ারবাসে সিলেট যায়। ফেরে এয়ারবাস পালকীতে চড়ে। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এ আয়োজন প্রসঙ্গে বিমান মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, জন্ম থেকেই এই শিশুরা বঞ্চিত। সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুরা যে আদর পেয়ে থাকে, তার কিছুই এরা পায় না। তাই এদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য আমাদের চেষ্টা। এই ভ্রমণের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে এই স্মৃতি গেঁথে থাকবে। ভবিষ্যতে লেখাপড়ায় উন্নতি করতেও এ স্মৃতি তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

এই শিশুদের যারা লেখাপড়ায় ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তি এবং শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেবে বিমান কর্তৃপক্ষ। এদিন ভোরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে চড়ে আকাশে ভেসে বেড়ান এতিমরা। এতিমদের মধ্যে ১৫ জন ছেলে ও ১৫ জন মেয়ে ছিল। বয়স ১১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। ১৬২ আসনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটিতে গতকাল তারা ছিল ‘বিশেষ কেউ’। ১৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে ময়ূরপঙ্খি ঢাকা থেকে সিলেটের পথে উড়ে যায়। ওড়ার সময় সাথী, মেহেরুন্নেসা, তানজিলা ও রনির মতো সব এতিমরা জানালা দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল আকাশের দিকে। ভেলার মতো ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘগুলোকে ছুঁয়ে ফেলতে চাইছিল তারা। অবাক বিস্ময়ে তারা ফেল ফেল করে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।

বিমানে চড়ে পুলকিত ও আনন্দ প্রকাশ করে। তাদের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির ছোঁয়া। বিমানের কর্মকর্তাদের নিজেদের তৃপ্তির কথা জানান তারা। মিরপুর সরকারি শিশু পরিবারের মো. সোহেল রানা বলেন, আমি কোন দিন ভাবতে পারিনি বিমানে চড়বো। এই ভ্রমন আমার কাছে স্বপ্নের মতো হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসান বলে, উড়োজাহাজের উপরেও মেঘ, নিচেও মেঘ। আমি এর মাঝখানে উড়োজাহাজে ছিলাম। সে জানায়, আমি পাইলট হবো। কিন্তু মেহেদীর আগে পাইলট হবার স্বপ্ন ছিল না। লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল তার।

৯ম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা রচনা বলেন, আজকের দিনটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। বিমানকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। মেহেদীর মতো সুবিধাবঞ্চিত কয়েক জন শিশু জানায়, কয়েক দিন আগে খবরটা জানতে পেরে উত্তেজনায় খাওয়া-ঘুম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। উড়োজাহাজে চড়ার স্বপ্নের জাল বুনতে থাকে তারা। উড়োজাহাজে চড়ে সোহেল রানা ও মেহেদী হাসানের মতো অনেক সুবিধা বঞ্চিত শিশু কখনো উড়োজাহাজ দেখতে পাবে, এটা ছিল তাদের কল্পনার বাইরে। যা দেখছিল, তাই ছিল তাদের কাছে নতুন কিছু।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password