এবার মার্কিন তরুনীর রেলস্টেশনকে বিয়ে !

ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যারল সান্তা ফে’র প্রেমের গল্পটা কিন্তু বেশ অদ্ভুত। কারণ, তিনি কোনো মানুষ নন, ভালোবেসে বিয়ে করেছেন একটি আস্ত রেলস্টেশনকে। যে স্টেশনে প্রত্যেকদিন প্রায় ২০০০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। ওই স্টেশনের দুটি দেয়ালের সংযোগস্থলের সঙ্গে নাকি তাঁর মধুচন্দ্রিমাও সারা হয়ে গিয়েছে।

তার দাবি ২০১৫র এক গ্রীষ্মে ক্যারল নিয়মমাফিক বিয়ে সারেন সান দিয়েগো শহরের সান্তা ফে স্টেশনের সঙ্গে। বিয়ের পর নিজের নামের সঙ্গে ‘স্বামী’র পদবিও জুড়ে নিয়েছেন। ক্যারল বলছেন, ‘মাত্র ৯ বছর বয়সেই আমার এই স্টেশনকে ভালো লেগে যায়। ছোটবেলায় যখন এই স্টেশনের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াতাম, তখনই মনে হতো ও যেন আমার অভিভাবক, প্রকৃত বন্ধু।

২০১১তে নিজের অনুভূতিকে ভালোবাসার নাম দেন ক্যারল। এই স্টেশনে এলে তাঁর নাকি ‘অর্গ্যাজম’ হয় বা শরীরে ‘যৌনাকাঙ্ক্ষা’ জাগে। কিন্তু সেবার এক রেলকর্মী তাঁকে তাড়া করে স্টেশনছাড়া করেন। এরপর থেকে প্রতিদিনই নিয়ম করে ‘স্বামী’র সঙ্গে দেখা করতে যান ক্যারল। তিনি নাকি সান্তা ফে’র ‘প্রিন্সেস’। নগ্ন হওয়ার অনুমতি না মেলায় পোশাক পরেই স্টেশনের দেয়ালগুলিকে ছুঁয়ে থাকেন উত্তাপ বিনিময় করতে। নিজেকে স্বঘোষিত ‘অবজেক্টাম সেক্সুয়াল’ বলে দাবি করেন ক্যারল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যারলের এই ‘ভালোবাসা’ অদ্ভুত হলেও নজিরবিহীন নয়। কারন এর আগে ২০০৭ এ এরিকা আইফেল নামের এক মার্কিন মহিলা দাবি করেন, তিনি আইফেল টাওয়ারকে বিয়ে করেছেন। সেই নিয়ে একটি জনপ্রিয় ডকুমেন্টারিও তৈরি হয়। তালিকায় রয়েছে একলফ বার্লিনারের নামও, যিনি ১৯৭৯ এ বার্লিন প্রাচীরকে বিয়ে করেন।

ব্যক্তি নয়, কোনো বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতাকে বলে ‘অবজেক্টোফিলিয়া’। ক্যারলও একই প্রবণতায় আক্রান্ত। ২০০৯ এ এই প্রবণতার সন্ধান পান মার্কিন গবেষকরা। সহজ করে বললে, এই প্রবণতা একধরনের অটিজম।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password