বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় ৩ লাশ

মৌলভীবাজারে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষ হয়েছে। আস্তানায় মিলেছে ৩ জঙ্গির লাশ। এ নিয়ে জেলার দুই জঙ্গি আস্তানায় ১০ জন নিহত হলো। অভিযান পরিচালনাকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবার নিরাপত্তার খাতিরে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান মনিরুল ইসলাম। কষ্ট স্বীকারের জন্য স্থানীয়দের ধন্যবাদও জানান তিনি।

এদিকে জঙ্গি আস্তানায় নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আজ লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত দুই আস্তানা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও ১৪৪ ধারার সীমা কমানো হয়েছে। আজ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুই আস্তানায় অভিযানের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
এদিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড়হাটে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’-এর সময় আস্তানায় থাকা জঙ্গি দম্পতি বাথরুমেই আত্মহনন করে। এই অপারেশনকালে আরেক জঙ্গি আত্মহনন করেছে বাথরুমের পাশেই।

জঙ্গিরা আত্মঘাতী হওয়ার আগে তাদের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নগদ অর্থ পুড়িয়ে ফেলে। শুক্রবার রাতে ওই বাসার একটি কক্ষে আগুন ও ধোঁয়া বের হতেও দেখা গেছে। শনিবার অভিযান শেষে ওই বাসায় প্রবেশের পর এই দৃশ্য দেখা গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা জানান, আস্তানার ভেতরের একজন পুরুষ ও একজন নারীর লাশ বাথরুমের মধ্যে ছিল। বাথরুমের পাশেই ছিল আরেকজনের লাশ। তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি, বাথরুমের নারী-পুরুষ দুজন স্বামী-স্ত্রী।

তাদের তুলনায় অন্য জঙ্গির বয়স কিছুটা কম। আমরা তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছি। জঙ্গি আস্তানা হিসেবে ব্যবহার হওয়া এই বাসাটিতে তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি শয়ন কক্ষ ও একটি বসার ঘর। একটি কক্ষে একটি খাট ও সামান্য কিছু আসবাব রয়েছে। আরেকটি কক্ষে সিঙ্গেল একটি খাট থাকলেও আগুন দেয়ার কারণে তা পুড়ে গেছে। কক্ষের ভেতর প্লাস্টিকের চেয়ার, ড্রেসিং টেবিল, আলনা রয়েছে। ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে পোশাকসহ বিভিন্ন জিনিস। টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টার অভিযানে সোয়াত সদস্যদের অ্যাসল্ট রাইফেলের গুলিতেও ভবনটি ক্ষত-বিক্ষত হয়। শুক্রবার বিকালে পুলিশের আর্মড পারসোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) দিয়ে ভবনের মূল ফটকটিও ভাঙা হয়।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password