সন্তানের ওপর বাবা-মায়ের হক!

অল রিপোর্ট ডেস্ক :

সন্তানের ওপর বাবা-মায়ের  অধিকার তাদের মৃত্যুর পরও শেষ হয়ে যায় না।জীবিত অবস্থায় তাদের নির্দেশ মান্য করা, সর্বোত্তম সেবাযত্ন করা এবং তাদের সন্তুষ্ট রাখা প্রতিটি সন্তানের কর্তব্য।

এমনকি  পরলোকগত বাবা-মার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা, তাদের ওয়াদা পূরণ করা, তাদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রতিটি সন্তানের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

আবু উসাইদ [রা.] থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আমরা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, বাবা-মার মৃত্যুর পর তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার এমন কোনো উপায় আছে কী, যা আমি অনুসরণ করতে পারি?

তিনি বলেন, হ্যাঁ, চারটি উপায় আছে : (i) তাদের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা, (ii) তাদের কৃত ওয়াদা পূরণ করা, (iii) তাদের বন্ধু-বান্ধব ও অন্তরঙ্গ ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শন করা এবং (iv) তাদের মাধ্যমে তোমার সঙ্গে আত্মীয়তার যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা অক্ষুণ্য রাখা।

বাবা-মা সন্তানের সন্তুষ্টির জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সাধ্যের সবটুকুই করার চেষ্টা করেন। সন্তানদেরও উচিত বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখা। তাদের মুখে হাসি ফোটানো। রাসুল (সা.) আমাদের তেমন নির্দেশই দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার বাবা-মাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় রেখে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হিজরতের উদ্দেশে বাইআত হওয়ার জন্য উপস্থিত হলো। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : বাবা-মার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের যেমনিভাবে কাঁদিয়ে এসেছ, তেমনিভাবে তাদের মুখে হাসি ফোটাও।

উপরোক্ত হাদিসটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে বাবা-মা যদি দুর্বল, বৃদ্ধ ও সন্তানের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন, তবে এ অবস্থায় তাদের সেবা-শুশ্রুষা করা হিজরতের মতো উত্তম আমলের চেয়েও অধিক উত্তম।

আমরা যেন কোনও অবস্থায় ভূলে না যাই বাবা-মা এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পেয়েছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার, তাদের সেবা করার, তাদের নির্দেশ মেনে চলার ও সন্তুষ্টি বিধানের তওফিক দিন। আমিন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১২, ২০১৫

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password