পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীদের শাস্তি দাবি

পদ্মা সেতুর মামলার রায় ইস্যু নিয়ে সংসদে ক্ষোভ জানিয়েছেন এমপিরা। রোববার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারি, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা বেশ কিছু দাবি জানান।

তারা বলেছেন, পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকারীরা দেশের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলারও পরামর্শ দেন তারা। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলে গতকালের পয়েন্ট অব অর্ডার। প্রায় ২০ জন এমপি আড়াই ঘন্টার বেশি সময় ধরে পদ্মা সেতু ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সচিবালয়ে উপস্থিত থাকলেও অধিবেশন কক্ষে ছিলেন না। অধিবেশনের শুরুতেই পদ্মা সেতু নিয়ে কানাডার আদালতের রায় নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ।

এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল মান্নান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল ও জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

বিকাল সাড়ে চারটা থেকে এই অনির্ধারিত বিতর্ক শুরু হয়ে মাঝে ২০ মিনিটের বিরতী শেষে রাত পৌণে ৮টা পর্যন্ত চলে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ভূয়া অভিযোগে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়া হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সংসদে দাঁড়িয়েই দীপ্ত কন্ঠে বলেছিলেন, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু করা হবে। বিশ্বব্যাংকেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী সফল হয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পদ্মা সেতু ছিল আমাদের একটি চ্যালেঞ্জ। ওই সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন- দুর্নীতির কারনেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এ কারণে সরকারের পদত্যাগও চেয়েছিলেন। এখন কী জবাব দেবেন খালেদা জিয়া? মিথ্যা অভিযোগের কারণে খালেদা জিয়ারই পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, বারবার দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছে, এখনও হচ্ছে।

বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব উত্থান ও অগ্রগতি দেশী-বিদেশী অনেক অপশক্তি সহ্য করতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রীকে হেয় ও ছোট করার জন্য ড. ইউনুস অনেক ষড়যন্ত্র করেছেন। সে একজন অকৃতজ্ঞ মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই ব্যক্তিকে আমরা গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্স দিয়েছিলাম। জাতীয় স্মৃতিসৌধে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোনদিন যাননি এই অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিটি। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও বিরাজনীতিকরণ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। আজ বিশ্বব্যাংকের মিথ্যাচার প্রমাণ হয়ে গেছে।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password